Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ১, ২০২৫

নারী স্বাস্থ্য অভিযানে বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি, গিনেস বুকে নাম ভারতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নারী স্বাস্থ্য অভিযানে বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি, গিনেস বুকে নাম ভারতের

ভারতের নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগ এখন বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নেতৃত্বে পরিচালিত দেশব্যাপী ‘স্বাস্থ্য নারী, শক্তিশালী পরিবার অভিযান’ একসঙ্গে তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করেছে। এ সাফল্যে দেশজুড়ে আনন্দ ও গর্বের স্রোত বইছে। শনিবার এক বিশেষ বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানান, ‘এই অর্জন কেবল সংখ্যার হিসেবে একটি রেকর্ড নয়, বরং এটি একটি সুস্থ, সক্ষম ও বিকশিত ভারতের পথে এক দৃঢ় পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যবান নারী মানেই শক্তিশালী পরিবার, আর শক্তিশালী পরিবারই হল উন্নত জাতির ভিত্তি।’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ এই অভিযানের অধীনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে। প্রথমত, এক মাসে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করেছেন — মোট ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭১১ জন। দ্বিতীয়ত, এক সপ্তাহে অনলাইনে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিয়েছেন ৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ৩৪৯ জন নারী। তৃতীয়ত, রাজ্য পর্যায়ে এক সপ্তাহে অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা বা ভাইটাল সাইন স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিয়েছেন ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৪০৬ জন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই তিনটি সাফল্যকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রসঙ্গত, অভিযান শুরু হয়েছিল ১৭ সেপ্টেম্বর, চলেছিল ২ অক্টোবর পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ‘পুষ্টি মাস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য ছিল নারী, কিশোরী ও শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা। দেশজুড়ে আয়োজিত হয় প্রায় ১৯ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্য শিবির, যেখানে ১১ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেন। এই শিবিরগুলিতে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, ওজন ও অন্যান্য প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি নাড্ডা এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘সেবা’ ও ‘ভারত ফার্স্ট’-এর চেতনায় অনুপ্রাণিত এ উদ্যোগ আজ দেশের গর্ব। এটি এমন এক সাফল্য যা নারীস্বাস্থ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। স্বাস্থ্য নারী, শক্তিশালী পরিবার এবং বিকশিত ভারত — এই দর্শনই এখন দেশের অগ্রগতির মূলমন্ত্র।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, ‘গিনেস রেকর্ডগুলির পেছনে কেবল প্রযুক্তি নয়, মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড়ো শক্তি। আমরা চাই, এই অংশগ্রহণ যেন স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও সমাজের সচেতনতার এক বিরল সমন্বয়ের উদাহরণ। নারীস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এটি নতুন দিশা দেখাচ্ছে— যেখানে প্রতিটি পরিবারই হয়ে উঠছে স্বাস্থ্য সচেতনতার কেন্দ্র। দেশজুড়ে এই অভূতপূর্ব সাফল্য এখন এক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে ভারতের এই ‘বিশ্বরেকর্ড’ কেবল সংখ্যার গর্ব নয়, এটি একটি সামাজিক বার্তা, যে, সুস্থ নারীই শক্তিশালী আগামী ভারতের মূল ভিত্তি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!