Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৬, ২০২৫

রাজ্যে কোন প্রক্রিয়ায় চলছে ‘এসআইআর’, কোন কোন নথি দেখা হচ্ছে ? কমিশনের কাছে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যে কোন প্রক্রিয়ায় চলছে ‘এসআইআর’, কোন কোন নথি দেখা হচ্ছে ? কমিশনের কাছে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের নজরে এসেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদালত বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশ দিতে চায়নি।

বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও তাঁর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।

এই জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, এসআইআর-সংক্রান্ত সমীক্ষা চালাতে গিয়ে সরকারি কর্মীরা নানা হুমকির মুখে পড়ছেন। মামলাকারীর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের সময় কারও নাম বাদ পড়লে সেই সরকারি কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্যের শাসকদল নাকি যেকোনও মৃত্যুর ঘটনায় এসআইআর আতঙ্ককে কারণ হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি ব্যবহার করছে। মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিএলওরা সরকারি কর্মী। তারা মাঠে হুমকির মুখে পড়ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’ উত্তরে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ‘সরকার জানে কীভাবে তার কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে হয়। আলাদা করে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের পর প্রথমবার এই প্রক্রিয়া রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে। কমিশনের দাবি, যারা আগে ভোটার তালিকায় ছিলেন, তাদের নতুন করে কোনো নথি জমা দিতে হবে না। ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যের মোট ৮০,৬৮১ জন বিএলও মাঠে নেমেছেন। সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত ১৪,০০০ জন কর্মী। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৭ কোটি ৬৬ লক্ষেরও বেশি এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করা হবে। ভোটারদের ফর্ম পূরণের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর। খসড়া ভোটার তালিকা ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে। ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণের পর্ব চলবে। অভিযোগ সংক্রান্ত শুনানি তিন ধাপে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন হবে।

মঙ্গলবার থেকে বাংলায় ‘এসআইআর’-এর কাজ জোরদারভাবে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন বিএলও-রা। একমাস চলবে এই কাজ। তার পর সংশোধিত ভোটার তালিকার প্রাথমিক ড্রাফট প্রকাশ করবে কমিশন। তাতে যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। এভাবেই ধাপে ধাপে চলবে প্রক্রিয়া। এমত পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারী পিন্টু কারার আদালতে আবেদন করেন, যাতে এসআইআর-এর সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানাতে কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও, তিনি দাবি করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া আদালতের নজরদারিতে সম্পন্ন হোক।

এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনা ‘এসআইআর’ বিতর্কে উত্তপ্ত। বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা বহমান।বিজেপি এটিকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল অভিযোগ তুলছে, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলার আসল ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি। জোড়াফুল শিবির এ প্রশ্নও তুলছে যে, আদতে এসআইআর বাংলায় এনআরসি করবার প্রথম ধাপ। নির্বাচনী আবহে এর বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে মমতা-অভিষেক সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!