Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

বছরের শেষ দিনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মুখোমুখি অভিষেক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বছরের শেষ দিনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মুখোমুখি অভিষেক

এস আই আর  ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর না মেলায় এ বার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছেই জবাব চাইতে যাচ্ছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড।

সম্প্রতি তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে গিয়ে পাঁচটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই এ বার সরাসরি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত বলে জানান অভিষেক।

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর চলতি সপ্তাহ থেকেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দপ্তরে শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে মোট ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডেকে প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। এই ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে যদি লুকোনোর কিছু না থাকে, তা হলে এই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?”

নির্বাচন কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-র কারণে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তবে অভিষেকের দাবি, কোন কোন কারণে এই ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি ধরা পড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ জানতেই পারছেন না তাঁর নাম কেন এই তালিকায় এসেছে। অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৩১ ডিসেম্বর আমরা সময়সীমা বেঁধে দেব। যদি তালিকা প্রকাশ না হয়, তা হলে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করা হবে।”

তিনি জানান, বিহারে যেখানে মোট ২৭ লক্ষ ‘সন্দেহজনক ভোটার’ ছিল, সেখানে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যাই ১ কোটি ৩৬ লক্ষ। অনেক ভোটারের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল নেই, কোথাও বাবার নাম ভুল, কোথাও আবার ভোটারের নিজের নাম আগের তালিকার সঙ্গে মেলেনি—এই সব নানা কারণ দেখিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।

অভিষেকের বক্তব্য, “ভুল থাকতেই পারে। কিন্তু তালিকা প্রকাশ করুন। কোন এলাকায় কার নাম নিয়ে সমস্যা, সেটা তো জানতে হবে। তবেই সংশ্লিষ্ট ভোটার অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন। এখন তো তিনি জানতেই পারছেন না।”

তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটারের ৫.৭৯ শতাংশ—দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। তুলনামূলক ভাবে তামিলনাড়ুতে বাদ গিয়েছে ৫৭ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের নাম (১২.৫৭%), গুজরাটে ৭৩ লক্ষ ৭৩ হাজার (৯.৯৫%), ছত্তিসগড়ে ২৭ লক্ষ ৩৪ হাজার (৮.৭৬%) এবং কেরালায় ২৪ লক্ষ ৮ হাজার ভোটারের নাম (৬.৬৫%)।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, “এগুলো নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ডেটা। শতাংশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে কম নাম বাদ গিয়েছে। তবু জোর করে SIR চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ বিজেপি দাবি করেছিল বাংলায় নাকি এক কোটির বেশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ভোটার রয়েছে।”

এদিকে, নতুন বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নামছেন অভিষেক। আগামী ২ জানুয়ারি তিনি যাবেন বারুইপুরে, ৩ জানুয়ারি জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। এই সফরে রয়েছে জনসভা ও রোড শো। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশিত ‘উন্নয়নের ডায়েরি’র তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতেই জেলায় জেলায় এই সফর শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!