- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
ফের পানীয় জলদূষণের কবলে বিজেপি শাসিত রাজ্য! হরিয়ানার গ্রামে ১৫ দিনে মৃত ১২, অসুস্থ শতাধিক
বিজেপি শাসিত হরিয়ানার পালওয়াল জেলার ছায়ানসা গ্রাম। গত ১৫ দিনে একের পর এক মৃত্যু ঘটছে সেখানে। সরকারি হিসেবে সংখ্যাটা ৭। গ্রামবাসীদের দাবি, অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ৫ জন স্কুলপড়ুয়াও রয়েছে। আর তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে, পানীয় জলেই কি ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী দূষণ?
গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে উদ্বেগের ছাপ। প্রায় ৫ হাজার মানুষের বাস ওই গ্রামে। গত ২ সপ্তাহ ধরে অধিকাংশ বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বরে কাবু। কারও কাশি, কারও বমি, কারও আবার গা-ব্যথা, ডায়রিয়া বা জন্ডিসের উপসর্গ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০০ মানুষের শরীরে একই ধরনের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। বারবার হাসপাতালে ছুটছেন অনেকে। তবু স্বস্তি নেই। এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে মৃত্যুর পরিসংখ্যান। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, গত ১৫ দিনে জলদূষণের কবলে পড়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত দু-সপ্তাহে ৭ জনের মৃত্যুর নথিভুক্ত তথ্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হেপাটাইটিস বি-জনিত কারণে বলে দাবি স্বাস্থ্য দফতরের। বাকি ৩ জনের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। অন্য মৃত্যুগুলির কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থানের সাম্প্রতিক ঘটনার পর, স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পানীয় জলকে ঘিরে। ছায়ানসা গ্রামে নির্দিষ্ট কোনো একক জলসংস্থান নেই। কেউ পুরসভার সরবরাহ করা জল ব্যবহার করেন, কেউ বাড়ির ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কে জল মজুত রাখেন। আবার অনেকে বাইরের ট্যাঙ্কার থেকেও জল নেন। অভিযোগ, বহু বাড়িতে ট্যাঙ্কের জল নিয়মিত বদলানো হয় না। সেখান থেকেই কি সংক্রমণের সূত্রপাত? হরিয়ানার স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেডিক্যাল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৩০০-র বেশি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে মাত্র ২ টিতে হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে ১০৭টি পরিবারের পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৩টির গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। কয়েকটি নমুনায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধরা পড়েছে। কোথাও অপর্যাপ্ত ক্লোরিনেশনের ইঙ্গিতও মিলেছে। যদিও, দূষিত জলের সঙ্গে সাম্প্রতিক অসুস্থতা ও মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নন আধিকারিকেরা। পাশাপাশি খাবারে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
তবে, গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত কারণ আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি হেপাটাইটিস বি-ই মৃত্যুর কারণ হয়, তা হলে এত মানুষের একই উপসর্গ কেন? আবার বহু অসুস্থের ক্ষেত্রে লিভার সংক্রমণ ও মাল্টি-অর্গান ফেলিয়োরের কথাও উঠে আসছে। মৃতের তালিকায় স্কুলপড়ুয়াও রয়েছে। ফলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন দূষিত জল পান করলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, লিভারের জটিলতা এবং গুরুতর শারীরিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে প্রয়োজন বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন শতাধিক রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। গ্রামজুড়ে এখন আতঙ্কের পরিবেশ। একের পর এক অসুস্থতার ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর স্বাস্থ্য দফতর।
❤ Support Us





