- দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
গুজরাটে প্রাণ হারালেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক
গুজরাটে প্রাণ গেল বাংলার মহিলা পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত সোনামণি বৈরাগ্য (৩৮) নাদনঘাট থানা এলাকার সিদ্ধেপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বছর দেড়েক আগে গুজরাটের আমেদাবাদে যান। সেখানে সোলা থানার বোদাকদেব এলাকার রজকপথ রঙ্গোলি রোডের একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন তিনি। রেস্টুরেন্টের একটি ঘরেই শুক্রবার রাতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সোনামণির। হোটেল কর্তৃপক্ষ ফোনে সোনামণির পরিবারকে জানান, আত্মহত্যা করেছে সোনামণি। সোনামণির পরিবার। তার মা শেফালি কর্মকার বলছিলেন, ‘অনেক দুঃখ সহ্য করেছে মেয়ে। কিন্তু ভেঙে পড়েনি। বিশ্বাস করি না মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
পূর্বস্থলী ১নং ব্লক তৃণমূল সভাপতি রাজকুমার পাণ্ডে বললেন, ‘এই হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির চরিত্র। বাংলা থেকে কাজ করতে যাওয়া ছেলেমেয়েদের প্রাণ কাড়ছে। হেনস্থা করছে। এমনকী আমেদাবাদের পুলিশ এই ঘটনার এফআইআর পর্যন্ত নিতে চায়নি। আমরা পরিবারটির পাশে আছি।’ আমেদাবাদ পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ায় নাদনঘাট থানায় শনিবার বিকেলে অভিযোগ দায়ের করলেন সোনামণির মা শেফালি কর্মকার। বলছিলেন, ‘আমি চাই যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক।’ অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করে নাদনঘাটের আইসি বিশ্ববন্ধু চট্টরাজ বলেন, ‘আমেদাবাদ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’ পুলিশ জানতে চাইছে, ঠিক কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
জানা গেল, নাদনঘাটেরই নসরৎপুর পঞ্চায়েতের ধোবা গ্রামের নুন আনতে পান্তা ফুরনো পরিবারের ছেলে মিঠুন বৈরাগ্যর সঙ্গে বছর কুড়ি আগে বিয়ে হয় সোনামণির। একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। নীলিমা নামে সোনামণির মেয়ে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খেতমজুরি করত মিঠুন। তাতে সংসার চলছিল না। তার উপর সন্তানের লেখাপড়ার খরচ। বাধ্য হয়েই আমেদাবাদের রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ নেন সোনামণি। সোনামণির মেয়ে নীলিমারও দৃঢ় বিশ্বাস, ‘মায়ের যা মানসিক জোর, মা আত্মহত্যা করতেই পারে না।’
❤ Support Us





