- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৯, ২০২৬
পুরনো-নতুন চমকে দ্বিতীয় দফায় ১১১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির। পানিহাটি কেন্দ্র সহ বাকি রইল ৩৮
ভোটের আগে শেষ প্রস্তুতিতে গতি বাড়াল ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের নাম ঘোষণা করল পদ্ম শিবির। ফলে মোট ২৫৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেল, বাকি রইল ৩৮টি আসন। পাশাপাশি প্রথম তালিকার একটি কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন শমীক-শুভেন্দুরা।
দ্বিতীয় দফার তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নামের পাশাপাশি নজর কেড়েছে কৌশলগত রদবদল। হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্রে টিকিট পেয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে জমে উঠতে চলেছে রাজনৈতিক লড়াই— বিজেপির প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-এর সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের লাভলি মৈত্র। উল্লেখযোগ্য, এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন রূপা।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চল ঘিরে। নিজের শক্ত ঘাঁটি ভাটপাড়া থেকে সরিয়ে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং-কে পাঠানো হয়েছে নোয়াপাড়ায়। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ অর্জুনের এই আসন পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নোয়াপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এ বার প্রার্থী করেছে ছাত্রনেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে, যিনি পার্থ ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফলে এই কেন্দ্রে লড়াই কার্যত পার্থ ভৌমিকের শিবির বনাম অর্জুন সিং— এমনই সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
অন্যদিকে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ভরসা রেখেছে আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী-র উপর। এটাই তাঁর প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূলের প্রার্থী, চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, ফলে লড়াই যে যথেষ্ট হাইপ্রোফাইল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। নিজের পারিবারিক প্রভাবক্ষেত্র থেকেই লড়াইয়ে নামছেন তিনি। কোচবিহারের মাথাভাঙায় টিকিট পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক।
দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ কেন্দ্রে চমক হিসেবে উঠে এসেছে অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী-র নাম। দীর্ঘদিন টলিপাড়ার সঙ্গে যুক্ত পাপিয়ার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। একই ভাবে যাদবপুরে টিকিট পেয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে দল পুরনো ও নতুন মুখের মিশ্রণে তালিকা সাজিয়েছে। বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটার মতো মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিদায়ী বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার এবং সুব্রত ঠাকুরকেই আবার প্রার্থী করা হয়েছে। স্বরূপনগরে প্রার্থী হয়েছেন তারক সাহা। হাবড়ায় প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও পুরসভার কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
জগদ্দল কেন্দ্রে সবচেয়ে বড়ো চমক— অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রাজেশ কুমার-কে প্রার্থী করা হয়েছে। ১৯৯০ ব্যাচের এই অফিসার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রাজ্যের রাজনীতির সঙ্গেও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। জানা যায়, প্রাক্তন ডিজি ও বর্তমানে তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আবার মুকুল রায়ের সুপারিশেই তিনি এক সময় কলকাতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরেছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবস্থানও বদলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রার্থীপদ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সন্দেশখালির মতো বহু চর্চিত কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সনৎ সর্দারকে। হিঙ্গলগঞ্জে সন্দেশখালি আন্দোলন থেকে উঠে আসা মুখ রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বিধাননগরে চিকিৎসক শারদ্বৎ মুখোপাধ্যায়, রাজারহাট গোপালপুরে তরুণ আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিকে প্রার্থী করা হয়েছে— যা দলের ‘নতুন মুখ’ কৌশলের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
কলকাতার একাধিক কেন্দ্রেও শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা স্পষ্ট। বেহালা পশ্চিমে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ, কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় রিতেশ তিওয়ারি, মানিকতলায় দলের সহ-সভাপতি তাপস রায় এবং বালিগঞ্জে জাতীয় পরিষদের সদস্য শতরূপাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে সব নাম ঘোষণার পরও কিছু জল্পনা থেকে গিয়েছে। পানিহাটি কেন্দ্রে এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, আরজি কর হাসপাতালের যৌন নির্যাতন করে-খুন কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মাকে প্রার্থী করা হতে পারে— যদিও দলীয়ভাবে এখনো এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা করেনি পদ্মশিবির।
এ দিকে প্রথম দফার তালিকাতেও সংশোধন আনা হয়েছে। বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে আগে ঘোষিত প্রার্থী অগ্নিশ্বর নস্করের বদলে নতুন করে প্রার্থী করা হয়েছে বিশ্বজিৎ খাঁ-কে। জয়পুর কেন্দ্রে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নাম রয়েছে বিশ্বজিৎ মাহাতোর। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার তালিকায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞ ও দাপুটে নেতাদের আসন পরিবর্তন, অন্যদিকে নতুন ও অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখদের প্রাধান্য— এই দুই কৌশলের মিশেলেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চাইছে বিজেপি। এখন নজর বাকি ৩৮টি আসনের দিকে, যেখানে আরও কিছু অপ্রত্যাশিত চমক অপেক্ষা করছে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
❤ Support Us






