- দে । শ
- এপ্রিল ৭, ২০২৬
কাঁকসা টোল প্লাজায় ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনা, পুলিশের সহায়তায় রক্ষা পেলেন কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী
কাঁকসা টোল প্লাজার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাই কোর্টের এক আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র জানা । পাশাপাশি পথ দুর্ঘটনায় পড়ার পর কাঁকসা থানার বড় বাবু ও মেজো বাবুর সহায়তায় সহায়তা পেয়ে পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র জানা সোমবার তাঁর নিজের গাড়ি চালিয়ে রূপনারায়ণপুর থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন, তখন তিনি কাঁকসা টোল প্লাজায় এক ভয়বহ দুর্ঘটনার মুখে তিনি পড়েন। বরাত জোরে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর গাড়িটি ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই সংকটজনক মুহূর্তে কাঁকসা টোল প্লাজার কোনও কর্মী তাঁকে কোনও ভাবে সহায়তা করেনি। ওখানকার ট্রাফিক গার্ডের এক পুলিশ আধিকারিক রূপম ব্যানার্জীর সহায়তায় যে লরিটি আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র জানাকে পিষে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সেই লরির মালিকের ফোন নম্বর পান। এই ঘটনার কথা আহত আইনজীবী দুর্গাপুর-আসানসোল কমিশনারেটে ফোন করে জানালেও সেখান থেকে কোনও রকম সহযোগিতা করা হয়নি বলে আহত আইনজীবী অভিযোগ করেন। অবশেষে কাঁকসা থানায় তিনি পৌঁছলে প্রথমে ওখানকার ডিউটি অফিসার তাঁকে হয়রান করেন, জিডি নিতে চান না। শেষ পর্যন্ত ওই থানার বড়বাবু অমিত দে এবং মেজবাবু অজিত কুমার কুন্ডুর সহায়তায় এফ আই আর করতে পারেন এবং সংকট থেকে মুক্তি পান।
আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র জানা জানান, “সোমবার সকাল ৭ টা বেজে ১৫ মিনিট নাগাদ আমি যখন রূপনারায়ণপুর থেকে কাঁকসা টোল প্লাজায় পৌঁছন তখন একটি বড় লরি রিভার্স গিয়ারে গাড়ি নিয়ে আমার গাড়ির পিছনে ক্রমেই চেপে দিতে শুরু করে। এর ফলে আমার প্রাণ সংশয় হওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। তার পর লরিটি রাস্তার লাইন ভেঙে পালিয়ে যায়। এই সময় কোনোক্রমে আমি মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে কাঁকসা টোল প্লাজায় অভিযোগ জানাতে গেলে সম্পূর্ণভাবে টোল প্লাজার কর্মীদের অসহযোগিতার মুখে আমায় পড়তে হয়। এমনকি আমি এই দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে আমায় বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া হবে না। এই সময় আমি স্থানীয় ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মী রূপম ব্যানার্জীর কাছে সহায়তা চাই, পুরো ঘটনা তাঁকে জানাই। তিনি তখন আমায় কাঁকসা থানায় যোগাগোগ করতে বলেন এবং যে লরিটি আমায় ধাক্কা মেরেছে সেই লরির মালিকের ফোন নম্বর দেন। আমি লরি মালিককে ফোন করলে তিনি আমায় বলেন, আমার লরির চালক সুস্থ্য না অসুস্থ্য অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল সেটা জানতে হবে, সে আদৌ আপনার গাড়িতে ধাক্কা মেরেছে কি না সেটা জেনে তারপর আপনার কথার জবাব দেব। আপনি অপেক্ষা করুন। সময় লাগবে। এরপর আমি কাঁকসা থানায় যাই। থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারকে ঘটনার বর্ণনা দিতে তিনি বলেন সময় লাগবে, এটার জন্য পুলিশ কেস হবে। কোনও অবস্থাতেই তিনি যখন এফআইআর নিতে চাইছিলেন না তখন আমি কাঁকসা থানার বড় বাবু অমিত দে-কে ফোন করি। তাঁর এবং মেজো বাবু অজিত কুমার কুন্ডুর সহায়তায় এফআইআর করতে পারি।”
দুর্ঘটনায় পড়া এই আইনজীবী বলছেন, “কাঁকসা থানা ও ট্রাফিক গার্ডের সহায়তা না পেলে আমি কোনও ভাবেই এফআইআর করতে পারতাম না। অথচ টোল প্লাজার কর্মীরা কতটা নির্লিপ্ত ভাবে আমার সঙ্গে চূড়ান্ত অসযোগিতা করলেন। পুলিশ যে এখনও মানবিক সেটাই এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
❤ Support Us





