- দে । শ
- এপ্রিল ২০, ২০২৬
মণিপুরে শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদে ৫ দিনের বনধ, বিক্ষোভে হিংসার আশঙ্কা
চলতি মাসের শুরুতে, মণিপুরে বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন ৫ দিনের সর্বাত্মক বনধের ডাক দিয়েছে। ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই বনধের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘মেইরা পাইবিস’ বা নারী প্রতিবাদী, বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি সংগঠন ।
৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলার একটি বিস্ফোরণে পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং পাঁচ মাসের এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদকারীদের মূল দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় বলে অভিযোগ থাকা কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
বনধের প্রথম দিনেই উপত্যকা অঞ্চলের জেলাগুলিতে জনজীবন প্রায় সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং পরিবহন পরিষেবা বন্ধ থাকে, যদিও কিছু এলাকায় জরুরি পরিষেবা চালু ছিল। ইম্ফল পূর্ব ও পশ্চিম জেলায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্থানে রাতের মিছিল সংগঠিত হয়। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কাকচিং জেলাসহ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, ইম্ফলের বিভিন্ন এলাকায় মেইরা পাইবিসদের নেতৃত্বে হওয়া রাতের মিছিলে কিছু হিংসাত্মক কার্যকলাপ হয়। পুলিশের দাবি, এই ধরনের উসকানিদাতারা পেট্রোল বোমা, লোহার প্রজেক্টাইল লাগানো ক্যাটাপল্ট এবং পাথর নিক্ষেপের মতো কৌশল ব্যবহার করছে। এছাড়াও, অনেক বিক্ষোভকারী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মিছিলে অংশ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিছু উসকানিদাতা আগেভাগে পেট্রোল বা কেরোসিন বোমা, ক্যাটাপল্ট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। এসব উত্তেজনার মধ্যেও নিরাপত্তা বাহিনী সংযম বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি পুলিশের।
সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। হিংসা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা অন্য কোনও বেআইনি কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।
নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলি সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। বনধের জেরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, যাতায়াত, পরিষেবা প্রাপ্তি এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমশ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
❤ Support Us






