Advertisement
  • Uncategorized এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • এপ্রিল ২০, ২০২৬

৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে উত্তর জাপানে সুনামির আঘাত, উপকূলে সতর্কতা জারি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে উত্তর জাপানে সুনামির আঘাত, উপকূলে সতর্কতা জারি

সোমবার উত্তর জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে উপকূলজুড়ে। জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূল সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরে বিকেল, স্থানীয় সময় ৪টা ৫৩ মিনিট নাগাদ ৭.৫ মাত্রার প্রবল ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের উৎস হওয়ায় তার অভিঘাত ছিল তীব্র। ভূকম্পনের জেরে ৮০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৩১ ইঞ্চি) উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। ইওয়াতে প্রিফেকচারের কুজি বন্দরে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে বিপুল ঢেউ আছড়ে পড়ে। এর ঠিক দুই মিনিট আগে, বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে, ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার আরেকটি ঢেউ আঘাত হানে।

ইওয়াতে ও হোক্কাইডো উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফুকুশিমা ও মিয়াগি উপকূলেও জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এদিনের ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে টোকিওর বহুতল ভবনগুলিও বেশ কিছু সময় ধরে দুলতে দেখা যায়। আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, সুনামির ঢেউ খুব দ্রুত উত্তর উপকূলে পৌঁছাতে পারে এবং পরপর একাধিক ঢেউ আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূল ও নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষদের দ্রুত উঁচু স্থানে বা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থান ত্যাগ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

জাপানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকে-এর সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে ইওয়াতের বিভিন্ন বন্দরে তাৎক্ষণিক বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি জরুরি সংকট ব্যবস্থাপনা দল গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, যেসব এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে, সেসব অঞ্চলের মানুষদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া উচিত। সরকার এখনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

জাপানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১,৫০০টি ভূমিকম্প হয়, যা বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ। অধিকাংশই মৃদু হলেও, ভূমিকম্পের অবস্থান ও গভীরতার উপর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে। ২০১১ সালের ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনো জাপানের মানুষের মনে তাজা। সেই বিপর্যয়ে প্রায় ১৮,৫০০ মানুষ নিহত হয় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো নানকাই ট্রাফ অঞ্চলে সম্ভাব্য ‘মেগাকোয়েক’ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রতলের খাদে ফিলিপাইন সি প্লেট ধীরে ধীরে জাপানের মূল ভূখণ্ডের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। জাপান সরকারের আশঙ্কা, নানকাই ট্রাফে বড়ো ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামি হলে প্রায় ২,৯৮,০০০ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে এবং প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সে সতর্কতা এক সপ্তাহ পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবুও তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করতে শুরু করেন এবং পর্যটকরা হোটেল বুকিং বাতিল করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উত্তর উপকূলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আবারও এক সপ্তাহের জন্য ‘মেগাকোয়েক’ সতর্কতা জারি করা হয়। ৮  ডিসেম্বরের সেই ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার সুনামি ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং ৪০ জনের বেশি মানুষ আহত হন, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!