- Uncategorized
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
প্রবল তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত সিকিম। আটকে বহু পর্যটক, গাড়ি। উদ্ধার অভিযান শুরু সেনার
পূর্ব সিকিমের পার্বত্য এলাকায় আচমকা প্রবল তুষারপাতের কারণে দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো পর্যটক একেবারে বিপদের মুখে পড়েছিলেন। শেরথাং, ছাঙ্গু, তসোম্গো লেকের উচ্চাংশে শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত অব্যাহত তুষারপাতের ফলে ১৫ মাইল এলাকা জুড়ে প্রায় ৫৪১টি পর্যটকবাহী গাড়ি বরফে আটকা পড়ে। শূন্যের নিচে তাপমাত্রা এবং কম দৃশ্যমানতার মধ্যে হঠাৎ তুষার জমে যাওয়ায় কার্যত বন্দি হয়ে পড়েন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। শুরু হয় সেনার উদ্ধার অভিযান।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে ভারতীয় সেনা, স্থানীয় পুলিশ এবং জিআরইএফ-এর সহযোগিতায় তৎপর হয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে। সিকিম প্রশাসন এবং পর্যটন দফতর জানিয়েছে, সেনা ‘অপারেশন হিমরাহাত’ নামে একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তুষারাচ্ছন্ন পাহাড়ি পথে সেনা টিম সরাসরি পৌঁছে পর্যটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে, বয়স্ক, নারী এবং শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনে। মেডিক্যাল টিম হাইপোথার্মিয়া, ফ্রস্টবাইট এবং উচ্চতা-সংক্রান্ত অসুস্থতার জন্য পর্যটকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। সূত্রের খবর, ২,৭৩৬ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পর্যটকরা সেনা ক্যাম্পে পৌঁছালে পর্যটকদের উষ্ণ খাবার, গরম পানীয়, কম্বল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা হয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকরা নিরাপদে গাংটক শহরে পৌঁছেছে।
এর পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে তুষার সরানো ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজও পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানের মধ্যে প্রায় ১৫০টি গাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। ‘সমন্বিত প্রচেষ্টায় সব পর্যটক এবং যানবাহন নিরাপদে বের করা হয়েছে। কমেছে পর্যটকদের আতঙ্ক। অভিযান মঙ্গলবার রাতেই শেষ হয়েছে’ জানিয়েছেন পর্যটন দফতরের কর্মকর্তারা। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন হিমরাহাত ভারতীয় সেনার মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রমাণ। উচ্চ-উচ্চতা অঞ্চলে ভ্রমণরত পর্যটকদের আবহাওয়ার খোঁজখবর রাখা এবং শীতকালীন নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।’ পর্যটন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটরদের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এবং সতর্কতামূলক অ্যাডভাইসরি মেনে চলা আবশ্যক। বিশেষত তুষারপাত প্রবণ অঞ্চলে ‘স্নো চেইন’ বাধ্যতামূলকভাবে গাড়িতে রাখতে হবে।
সিকিমের আবহাওয়া দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দার্জিলিং ও সিকিমের উচ্চাংশে আরও কয়েকদিন তুষারপাত অব্যাহত থাকতে পারে। মূলত হিমালয়ের উচ্চ অঞ্চলগুলোই তুষারপাতের প্রভাব বেশি পাবে। গত কয়েকদিন ধরে তুষারপাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিকিমের পর্যটন এলাকা ও ছাঙ্গু লেক অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের ভিড় বাড়তে শুরু করে। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, কেউ তুষার ছোড়াছুড়ির খেলায় মেতে ওঠেন, আবার অনেকে শুধু দাঁড়িয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে উপভোগ করেন। হিমালয়ান হসপিট্যালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক-এর যুগ্ম সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী জানান, মরশুমের প্রথম তুষারপাত পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনবে। হোটেল ও হোমস্টেগুলিতে বুকিং চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
❤ Support Us








