- দে । শ
- মে ৩০, ২০২৬
জমি জটে আটকে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ, সমস্যা মেটাতে স্বরূপনগরে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া
সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য জমি জট কাটাতে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের সীমান্ত পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের কৈজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী গাবর্ডা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাঁটাতার নির্মাণ প্রকল্পের জট খুলতে উদ্যোগী হলো রাজ্য প্রশাসন।
শনিবার এলাকায় পরিদর্শনে যান রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন সীমান্তবাসীরা। জানা গিয়েছে, স্বরূপনগরের সীমান্তবর্তী গাবর্ডা গ্রামের মণ্ডলপাড়া, ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ বহুদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় থমকে ছিল। কোথাও বসতবাড়ির উপর দিয়ে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত কৃষিজমির মধ্য দিয়ে সীমান্তরেখা চলে যাওয়ায় কাঁটাতার বসাতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে প্রশাসন ও বিএসএফকে। ফলে সীমান্তের বেশ কিছু অংশ এখনো সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিন গাবর্ডা গ্রামে পৌঁছে প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সীমান্ত এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র তুলে ধরেন বিএসএফ আধিকারিকরা। তাতে কাঁটাতার বেড়া কী ভাবে হবে তার রূপরেখা, জমির অবস্থান, সীমান্ত নির্দিষ্ট করার বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। কোন অংশে কীভাবে কাঁটাতার বসানো হবে এবং জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী স্বরূপনগর বিডিও দপ্তরে যান। সেখানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে আরও এক দফা আলোচনা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে কীভাবে দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমান্ত নির্ধারণের সমস্যার কারণে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগে এবার সেই জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় খুশি এলাকার মানুষ।
এলাকা পরিদর্শনের পর খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা যেমন বোঝা গেল, তেমনি সমাধান সূত্রও মিলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের যাতে কোন সমস্যা হয়, এমন কিছু করা হবে না। আবার ভারত ভূখণ্ডের এক টুকরো জমিও কাঁটাতারের বেড়া বাইরে যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাঁটা তার বসবে।’ তিনি এও বলেন, বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। এক্ষেত্রে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি জমির মালিকদের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থ দেখা হবে। মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ নতুন গতি পাবে বলেই আশা সীমান্তবাসীদের।
❤ Support Us





