- Uncategorized দে । শ
- মার্চ ৯, ২০২৬
মার্চের শুরুতেই চড়ছে পারদ, ৫০ বছরে সর্বোচ্চ উষ্ণ দিল্লি। উত্তর ভারত জুড়ে তাপপ্রবাহের ইঙ্গিত
মার্চের প্রথম সপ্তাহেই গরমের ঝাঁজ স্পষ্ট। রাজধানী দিল্লিতে পারদ ছুঁয়েছে ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত অর্ধশতকে মার্চের প্রথম সপ্তাহের জন্য যা সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে অস্বাভাবিক ভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বৃষ্টির ঘাটতি— এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির প্রধান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সাফদরজংয়ে রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় যা প্রায় ৭.৩ ডিগ্রি বেশি। গত ৫০ বছরের তথ্য ঘেঁটে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মার্চের প্রথম ৭ দিনে এর আগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৯৯৯ সালের ৫ মার্চ সেই রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। ২০১১ সালের পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০১৬ সালে, তখন ৪ মার্চ পারদ উঠেছিল ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিন, দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। সাফদরজংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩.৪ ডিগ্রি বেশি।
দিল্লির পাশাপাশি পারদ ঊর্ধ্বমুখী হরিয়ানাতেও। রাজ্যের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৬.২ ডিগ্রি বেশি। দিনের তাপমাত্রা পৌঁছয় ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তরাখণ্ডেও একই ছবি। দেরাদুনে গত কয়েক দিনে দ্রুত বেড়েছে তাপমাত্রা। সরকারি তথ্য বলছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে ১২ ডিগ্রি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬ ডিগ্রি বেশি। রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ ডিগ্রি বেশি। দেরাদুন আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাখণ্ডের সমতল এবং পাহাড়ি দুই অঞ্চলেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে স্বাভাবিকের উপরে রয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরেও একই প্রবণতা। যদিও আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমেছে দিনের তাপমাত্রা, তবু তা এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। সপ্তাহান্তে জম্মুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৯.১ ডিগ্রি— স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ৪.৬ এবং ৫.৬ ডিগ্রি বেশি। মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে যাওয়ার প্রধান বেস ক্যাম্প কাটরাতেও তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। সেখানে সর্বোচ্চ ২৮ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। গরমের দাপট বাড়ছে হিমাচল প্রদেশেও। শিমলা আবহাওয়া দফতর রবিবার কাংড়া, কুল্লু, মান্ডি এবং সোলান— এই ৪ জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। শনিবার সুন্দরনগর, ভুনতার, সোলান এবং ধর্মশালায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি দেখা যায়। হিমাচল প্রদেশে মার্চের শুরুতেই এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি বেড়েছে। ফলে মার্চের শুরুতেই পাহাড়ি এলাকায় এপ্রিল–মে মাসের মতো গরম অনুভূত হচ্ছে। উনা, শিমলা, মানালি ও কালপার মতো শহরগুলিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বড়সড় তাপমাত্রা বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে। শিমলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মানালিতে ২৪.৮ ডিগ্রি—দুটিই স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭–৮ ডিগ্রি বেশি।
পরিবেশবিদদের মতে, এরকম পরিস্থিতির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন প্রধান দায়ী। হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী ড. পঙ্কজ গুপ্তার মতে, বায়ুমণ্ডলে বাড়তে থাকা কার্বন নিঃসরণ তাপ আটকে রাখছে, যার ফলে ভূমির তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের বড় জলবায়ু সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ ছাড়াও দুর্বল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং শীতকালীন বৃষ্টিপাতের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। চলতি শীতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ১৮৭.১ মিলিমিটার, কিন্তু এ বছর রেকর্ড হয়েছে মাত্র ১০৩.২ মিলিমিটার। ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি ও পরিবেশেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ গরম বেড়ে যাওয়ায় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার সময়সূচিতে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। আপেল, পিচ, বরই এবং এপ্রিকটের মতো ফলগাছে আগেভাগেই ফুল আসছে। রোডোডেনড্রনের মতো পাহাড়ি ফুলও এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় আগেই ফুটেছে। এর ফলে ফলন ও পরিবেশগত ভারসাম্যের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমতল ও মাঝারি পাহাড়ি অঞ্চলে গমের ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শস্যের দানা ছোটো হয়ে যেতে পারে এবং ফলন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
অস্বাভাবিক গরমের ছাপ পড়েছে বাংলাতেও। মার্চের শুরুতেই উধাও হয়ে গিয়েছে ভোরের চেনা শিরশিরে হাওয়া। বরং দিনের সঙ্গে বাড়ছে আর্দ্রতা ও গরমের অস্বস্তি। তবে সপ্তাহান্তে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা ৪ দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রায় গোটা রাজ্যেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। সোমবারের পর বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং হুগলি জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের উপরেও আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। উত্তরবঙ্গে আপাতত আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও রবিবার থেকে সেখানেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রবিবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আকস্মিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা। চিকিৎসকদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ তীব্র গরমে অভ্যস্ত নন। ফলে ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোক, শ্বা
❤ Support Us








