- Uncategorized এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বারুইপুরের সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলি
মায়ের অসুস্থতার কারণে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বারুইপুরের সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলি। প্রায় ৫০ দিন ধরে জেলবন্দি রয়েছেন তিনি। তাঁর মা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন। এ পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে থাকার জন্য লাহেককে সাময়িক জামিন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। বুধবার সে আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাহেকের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে জামিনের সঙ্গে রয়েছে একাধিক শর্ত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে বারুইপুর থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না লাহেক। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে থানায় ডাকা হলে হাজির হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।
বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। সে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে স্থানীয় মানুষজন। বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হওয়া অশান্তির মধ্যে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের অভিযোগ, ওই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়াতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন লাহেক। এর ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১২ জুলাই লাহেককে গ্রেফতার করে বারুইপুর থানার পুলিশ। এর পর থেকে জেলেই রয়েছেন তিনি। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তে কয়েকটি ভিডিয়ো ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পরই লাহেকের নাম সামনে আসে বলে পুলিশের দাবি। বিক্ষোভের সময় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং এলাকায় হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তদন্তকারীদের বক্তব্য। তবে বুধবার হাইকোর্টে শুনানির সময় লাহেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। রাজ্যের কৌঁসুলি কল্লোল মণ্ডল আদালতে জানান, উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগেই লাহেককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর পর বিচারপতি জানতে চান, ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন লাহেক? সেই মন্তব্যটি আদালতের সামনে পেশ করার কথাও বলেন তিনি।
বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ওই মুহূর্তে সে মন্তব্য তাঁদের কাছে নেই। এর পর বিচারপতি জানতে চান, যৌন নির্যাতনের ঘটনা বা গণপিটুনিতে লাহেক সরাসরি জড়িত কি না। রাজ্যের তরফে স্পষ্ট করা হয়, যৌন নির্যাতনের ঘটনায় লাহেকের কোনো যোগ নেই। গণপিটুনির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বক্তব্যের পরেই বিচারপতি জানতে চান, লাহেকের বিরুদ্ধে এর আগে অন্য কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না। একই সঙ্গে তাঁর মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয় আদালত। শেষ পর্যন্ত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। লাহেকের আইনজীবীদের বক্তব্য, তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। নরেন্দ্রপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় ছেলেকে মায়ের পাশে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্যই আদালতে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল।
লাহেকের গ্রেফতারির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে পুলিশের তদন্ত এবং গ্রেফতারির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন, পর্যাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই না করেই পুলিশ তড়িঘড়ি লাহেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে এলাকায় হিংসা ছড়িয়েছিল এক দল মানুষ। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। ওই ঘটনায় সন্দেহের বশে এক অটোচালককে মারধর করে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসা ভিডিয়ো ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই লাহেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়।
এ ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজাও কম হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিজেপি নেতৃত্বের তরফে পুলিশের উপর হামলা এবং অশান্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে বাম নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। লাহেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি। তার আগে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। ফলে ওই দিন লাহেকের অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বাড়ে কি না, নাকি তাঁকে ফের জেলে ফিরতে হয়, এখন নজর সে দিকেই।
❤ Support Us








