Advertisement
  • Uncategorized এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৭, ২০২৬

কলকাতায় আরও ২টি ওয়ার্ড বাড়ার সম্ভাবনা, ৪৫ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যায় গরমিল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় আরও ২টি ওয়ার্ড বাড়ার সম্ভাবনা, ৪৫ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যায় গরমিল

সমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় সমসংখ্যক ভোটার রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় অন্তত ৪৫টি ওয়ার্ডে সে নির্দেশ পুরোপুরি মানা সম্ভব হয়নি। ওয়ার্ড পিছু প্রায় ১৬ হাজার ভোটার ধরে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় ২০৯টি ওয়ার্ডের পরিকল্পনা থাকলেও প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত সে সংখ্যা আরও দু’টি বেড়ে ২১১ হতে পারে বলে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে খবর।

নভেম্বরের শেষে পুরভোট আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত ডিলিমিটেশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে গিয়ে ১২টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে রিপন স্ট্রিট-আলিমুদ্দিন এলাকার ৬২ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে। সর্বদলীয় বৈঠকে অভিযোগ উঠেছে, এই ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, পুনর্বিন্যাসের পর প্রস্তাবিত ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা সাড়ে ১৩ হাজারেরও কম রয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকার বুথভিত্তিক হিসাব থেকেই এই তথ্য উঠে এসেছে বলে পুরসভার আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন। ফলে একদিকে যেমন কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা নির্ধারিত ১৬ হাজারের তুলনায় অনেকটাই বেশি, অন্যদিকে বেশ কিছু ওয়ার্ডে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এখানেই উঠছে সম-উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন। উন্নয়নের অর্থ যদি সমস্ত ওয়ার্ডে সমানভাবে বণ্টন করতে হয়, তাহলে ভোটার সংখ্যায় এতটা তারতম্য থাকা ওয়ার্ডগুলিতে কীভাবে সমান উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ডিলিমিটেশন নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগও সামনে এসেছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, বিজেপিকে পুরভোটে সুবিধা করে দিতেই ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণে পক্ষপাত করা হয়েছে। তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেসের অভিযোগ, ইচ্ছেমতো সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলেই কোনও কোনও ওয়ার্ডে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় ভোটার অনেক বেশি হয়েছে, আবার কোথাও তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ লিখিতভাবে জমা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে ভোটার সংখ্যার বর্তমান হিসাবই চূড়ান্ত নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের আগেই এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইবুন্যাল মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কলকাতার পুরনো ১৪৪টি ওয়ার্ড মিলিয়ে কয়েক হাজার ভোটারের আবেদন এখনও ট্রাইবুনালে রয়েছে। সেই মামলাগুলির নিষ্পত্তির পর আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলির ভোটার সংখ্যা বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে ট্রাইবুনালে থাকা নামগুলি ভোটার তালিকায় যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনই সামগ্রিক জনসংখ্যার হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে ডিলিমিটেশনের বর্তমান খসড়া চিত্র শেষ পর্যন্ত কতটা বদলাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এর পাশাপাশি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে না নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও এখনো ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ চূড়ান্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত মানচিত্রও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের মতো যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজারের বেশি, তার বিপরীতে যেসব ওয়ার্ডে ভোটার সাড়ে ১৩ হাজারেরও কম— সেগুলির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য আনা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ট্রাইবুন্যালের মামলার নিষ্পত্তি, নতুন ভোটার সংযোজন এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে ওয়ার্ড সংখ্যা ২০৯ থেকে বেড়ে ২১১ হলে শেষ পর্যন্ত কলকাতার ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার বিন্যাস কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!