Advertisement
  • বি। দে । শ
  • আগস্ট ২৭, ২০২৬

হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপ নেপাল! নিশ্চিহ্ন বহু গ্রাম, নিখোঁজ কয়েকশো পর্যটক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপ নেপাল! নিশ্চিহ্ন বহু গ্রাম, নিখোঁজ কয়েকশো পর্যটক

হড়পা বানের ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত নেপাল। একের পর এক গ্রাম ও বাজার এলাকা নিশ্চিহ্ন। কোথাও কেবল কাদামাটি, পলি আর ধ্বংসস্তূপ। আকাশপথে উদ্ধার অভিযানের সময় হেলিকপ্টার থেকে ক্যামেরাবন্দি হওয়া এমনই এক ভিডিয়োতে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির ছবি ধরা পড়েছে। চিন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ার ফলেই ভয়াবহ হড়পা বান সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রবল স্রোত ভুটকোশী ও ত্রিশূলী নদীর গতিপথের একাধিক গ্রাম ও শহরের উপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বহু বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র জলের তোড়ে ভেসে যায়।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ। নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২৯১ জন বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার নাগরিকরাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।

নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী আকাশপথে অভিযান চালিয়ে দুর্গত এলাকা থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদেরও দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, বন্যার জলে বহু বহুতল ভবন পর্যন্ত তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকর্মীরা কাদা ও পলির স্তর সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালাচ্ছেন। নেপালি পুলিশের প্রকাশ করা বিভিন্ন ছবিতেও নদীর প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গিয়েছে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটিজ’-এর নেপাল শাখার প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বহু গ্রাম, বাজার এলাকা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। যেখানে একসময় জনবসতি ছিল, এখন সেখানে শুধুই কাদামাখা ধ্বংসস্তূপ। দুর্যোগের প্রভাব নেপালের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের দিকেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সীমান্তের উভয় প্রান্তের কর্মকর্তারা বড়ো ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের একাধিক জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,  প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় চলা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমশ ঘন ঘন ঘটছে এবং তার তীব্রতাও বাড়ছে। কাঠমান্ডু-ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’-এর জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং ফের বন্যার আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেছেন। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তের গিরং এলাকাতেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে তিন জনের মৃত্যু এবং ২৬৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!