- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
বন্যা বিধ্বস্ত মালদহ, ১০ হাজার দুর্গত পরিবারকে সহায়তা পতাকা শিল্প গোষ্ঠীর
গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জলস্ফীতি ও ভাঙনে বিপর্যস্ত মালদহের মানিকচক ও ভূতনি চর এলাকা। সেখানকার মানুষ এখন কার্যত সর্বস্বান্ত। কোথাও বাড়িতে জল ঢুকেছে, কোথাও আবার নদীর গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়েছেন বাসিন্দারা। চাষের জমি জলের তলায়। বহু এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল ‘পতাকা শিল্প গোষ্ঠী’র জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটি। মঙ্গলবার থেকে মানিকচক অফিস থেকে শুরু হয়েছে ত্রাণ-বণ্টন কর্মসূচি। মানিকচক ব্লকের ভূতনি-সহ বিস্তীর্ণ প্লাবিত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটির চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী মোস্তাক হোসেনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ত্রাণ-বণ্টন চলছে বলে সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে। ‘পতাকা’ গ্রুপের ডিরেক্টর সারিফ হোসেন জানান, দুর্গত পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। প্রতিটি পরিবারের জন্য রাখা হয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল। নদীভাঙনে যাঁদের বাড়িঘর ভেঙে গিয়েছে বা জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে, তাঁদের জন্য জরুরি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে ত্রিপলও দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গত এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও সহজ নয়। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বহু জায়গায় এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে নৌকা ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণসামগ্রী। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বয়স্ক, অসুস্থ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলিকে। স্বেচ্ছাসেবকেরা নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে বাড়ি বাড়ি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
ত্রাণ-বণ্টন কর্মসূচির সূচনায় উপস্থিত ছিলেন মোথাবাড়ির বিধায়ক এবং মানিকচকের বিধায়ক। তাঁদের উপস্থিতিতে দুর্গত পরিবারগুলির হাতে বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। সংস্থার ডিরেক্টর সারিফ হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ত্রাণ-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এই দুঃসময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারবদ্ধ জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটি।’ বন্যা ও নদী ভাঙনের জেরে মালদহের মানিকচক ও ভূতনি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অবশ্য নতুন নয়। নদীঘেরা চরাঞ্চলে বর্ষার মরসুমে প্লাবন এবং ভাঙন নিয়মিত সমস্যার আকার নেয়। বিগত বছরগুলিতেও বন্যা পরিস্থিতিতে মালদহের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘পতাকা শিল্প গোষ্ঠী’র জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটি। আপৎকালীন ত্রাণের পাশাপাশি আগামী দিনে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। তারা জানিয়েছেন, জল নামার পর, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনেও নতুন করে সহায়তা করা হবে।
শুধু মালদহ নয়, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটি। পতকা গোষ্ঠীর কর্ণাধার মোস্তাক হোসেন শুধু ব্যবসায়ী নন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সারা বছরই নিরন্তর কাজ করে চলেছেন তিনি। জিডি চ্যারিটেবল সোসাইটির মাধ্যমে রাজ্যের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোস্তাক হোসেনের সাহায্যের হাত প্রসারিত হয়েছে বারবার। মালদহের এই ভয়াবহ বন্যায় তাঁর উদ্যোগ দুর্গত মানুষকে নতুন করে বাঁচার ভরসা জুগিয়েছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
❤ Support Us







