Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২০, ২০২৬

ভোট আবহে আই-প্যাকে বাড়ছে ইডি-র চাপ!  ভিনেশের গ্রেফতারির পর, তলব ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংকে। বন্ধ হবে সংস্থার রাজনৈতিক ‘পরিষেবা’ ?  

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোট আবহে আই-প্যাকে বাড়ছে ইডি-র চাপ!  ভিনেশের গ্রেফতারির পর, তলব ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংকে। বন্ধ হবে সংস্থার রাজনৈতিক ‘পরিষেবা’ ?  

ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে জোড়দার ভূমিকম্প। শাসক দল তৃণমূলের হয়ে ভোটকৌশলের কাজ করা সংস্থা আই-প্যাক আপাতত নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার ভিতরে অনিশ্চয়তার ছায়া স্পষ্ট। রবিবারই সংস্থার কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে খবর ছড়ায়। একটি ইমেলে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ মে-র পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফের যোগাযোগ করা হবে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে।’ যদিও এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, ভোটের ঠিক আগে এমন ‘ছুটি’ কার্যত সংস্থার মাঠপর্যায়ের কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের তরফে অবশ্য সমস্ত জল্পনাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, আই-প্যাক আগের মতোই কাজ করছে এবং ভোটের সময়েও তাদের কার্যকলাপে কোনো ছেদ পড়বে না। বরং এই তলব ও গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে শাসকদল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের সংস্থাগুলিকে বলা হচ্ছে বাংলা ছেড়ে চলে যেতে। কেন? ওদের ভয় দেখালে আমরা ওদের পাশে দাঁড়াব, প্রয়োজনে চাকরিও দেব।’  রাজনৈতিক মহলের একাংশেরও মত, ভোটের মুখে এই ধরনের পদক্ষেপের পিছনে অভিসন্ধি থাকতে পারে। অন্য দিকে, বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, আই-প্যাকের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংকে সোমবার দিল্লির সদর দফতরে হাজিরার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে। এ খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই তলব। সংস্থার আর্থিক লেনদেন, তহবিলের উৎস, এবং ব্যয়ের খতিয়ান খতিয়ে দেখতে চাইছে তদন্তকারীরা। এর আগেই একই মামলায় আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া এই তদন্তে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও আদালতে জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, সংস্থার অংশীদারিত্ব এবং আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন দিক বিশদে খতিয়ে দেখা জরুরি।

ঋষি রাজ সিংহের পেশাগত পরিচয়ও কম উল্লেখযোগ্য নয়। আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী তিনি। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক স্তরের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং সংস্থায়। কর্পোরেট জগত থেকে নির্বাচনী কৌশলের দুনিয়ায় পা রেখে আই-প্যাকের সূচনালগ্ন থেকেই যুক্ত রয়েছেন তিনি। ‘সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স’ থেকে তৈরি হওয়া এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে আই-প্যাক। এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেও যুক্ত ছিল সংস্থাটি।

কয়লা পাচার মামলায় আই-প্যাকের নাম জড়িয়েছে বলে তদন্তকারী মহলের দাবি। সেই সূত্রে কলকাতায় সংস্থার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনেও তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। শুধু তাই নয়, গত সপ্তাহেই প্রতীকের পরিবারের সদস্যদেরও তলব করা হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে যে নথি ও তথ্য এসেছে, তার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে জিজ্ঞাসাবাদের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে সূত্রের ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, এক দিকে ইডি-র তদন্ত যত এগোচ্ছে, অন্য দিকে রাজনৈতিক তরজাও ততই তীব্র হচ্ছে। গ্রেফতারি, তলব, তল্লাশি, সব মিলিয়ে আই-প্যাককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!