Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২০, ২০২৬

মঙ্গলকোটে কেষ্টর প্রত্যাবর্তন! কাশেমনগরের সভা থেকে অনুব্রতের বার্তা — ‘মমতা না থাকলে বাংলায় অন্ধকার’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মঙ্গলকোটে কেষ্টর প্রত্যাবর্তন! কাশেমনগরের সভা থেকে অনুব্রতের বার্তা — ‘মমতা না থাকলে বাংলায় অন্ধকার’

পুরোনো গড়েই নির্বাচনী প্রচারে ফের সক্রিয় বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা কেষ্ট ওরবে অনুব্রত মণ্ডল। মঙ্গলকোটের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরি-র সমর্থনে একের পর জনসভা করছেন তিনি।  অতীতেও প্রচারে এসেছিলেন, এ বারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। এদিন কাশেমনগর ফুটবল মাঠে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে এক অর্থে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও তাঁর জনসমাগম ক্ষমতায় যে ভাটা পড়েনি, এ বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠল সভাস্থলের চিত্রে।

মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম, আউশগ্রাম— বীরভূমের পাশাপাশি, পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘদিন তৃণমূলের দলীয় পরিদর্শক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন অনুব্রত। বছর জুড়ে নিয়মিত সভা, কর্মী-সংগঠনের কাজ— সব মিলিয়ে এলাকাগুলিতে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি ছিল। ভয়, ভক্তি আর সংগঠনিক প্রভাব মিলিয়ে কর্মীদের বিশেষ আবেগও তৈরি হয়েছিল তাঁকে ঘিরে। সে ছন্দে ছেদ পড়ে ২০২২ সালের পুর নির্বাচনের পর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তারির ঘটনায়। এরপর সংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম ও আউশগ্রামকে পূর্ব বর্ধমান জেলার সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গেই যুক্ত করে দেয় দলীয় নেতৃত্ব।

জেলমুক্তির পর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এলেও জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ, আগের মতো এই অঞ্চলগুলিতে তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব আর নেই। তবু ভোটের আগে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছেই ‘পুরোনো দিনের ইঙ্গিত’ বলেই মনে হচ্ছে। কাশেমনগরের সভায় সে সম্ভাবনারই প্রতিফলন যেন চোখে পড়ল— দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ঢল নেমেছিল মাঠে। দুপুরের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেও জনজোয়ার। সভামঞ্চে উঠে সোজাসাপ্টা বার্তা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল— ‘মমতা ব্যানার্জি না থাকলে বাংলায় অন্ধকার নেমে আসবে।’

ভিড়ের দিকে তাকিয়ে কেষ্টর আত্মবিশ্বাসী সুর, ‘ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে ভোট দিন।’ সেই সঙ্গে তাঁর পরিচিত ঢঙে সংযোজন, ‘এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার থাকে।’ সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে বারবার উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। বলেন, ‘অপূর্ব চৌধুরিকে সমর্থন করা মানে মমতা ব্যানার্জির হাত শক্ত করা। উন্নয়ন মানুষ চোখে দেখছে।’ তাঁর দাবি, রাজ্যের একাধিক জনমুখী প্রকল্প—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, যুবসাথী, কৃষকবন্ধু, সবুজসাথী—এই সরকারের হাত ধরেই সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছেছে। সে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে তৃণমূলকেই ফের ক্ষমতায় আনতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি। পাঁচ বছর পর মঙ্গলকোটের মাটিতে অনুব্রতের রাজনৈতিক কর্মসূচি— এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে জেলা তৃণমূল নেতা অরিন্দম ব্যানার্জি বলেন, ‘ওঁর জনপ্রিয়তায় যে এতটুকু ভাটা পড়েনি, এই জনজোয়ারই তার প্রমাণ।’ প্রার্থী অপূর্বও উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ে।

বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে গিয়ে অনুব্রতের অভিযোগ, ‘মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িকতা আর অন্যায় হস্তক্ষেপে ভর করে রাজনীতি করছে তারা।’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আমরা অন্ধকার চাই না। এই সুন্দর বাংলায় কেন অন্ধকার আনব?’ বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘ওরা বাংলাকে ভালোবাসে না, বাঙালিকে ভালোবাসে না।’ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের জনমুখী প্রকল্পগুলির তালিকা তুলে ধরে বলেন, ‘যতদিন মমতা, ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, কন্যাশ্রী, কৃষকবন্ধু, সবুজসাথী— মোট ১০৫টি প্রকল্প চলবে।’  মমতার ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশংসা শোনা গেল তাঁর গলায়। ‘মানুষের সঙ্গে মাটিতে পা দিয়ে চলেন। এতটুকু অহঙ্কার নেই’— দাবি অনুব্রতের। সেই সুরেই প্রার্থী অপূর্বকে ‘অচল’ বলে উল্লেখ করে তাঁর মন্তব্য, ‘ডাকলেই পাবেন, মানুষের পাশে থাকে।’ বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে এনে সিপিএমের বিরুদ্ধে পুরনো ক্ষতও উসকে দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘লাগামছাড়া সন্ত্রাসে বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় জেলে গিয়েছেন।’ প্রশ্ন তোলেন, ‘সেই সময় কারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল?’ তাঁর দাবি, ‘মঙ্গলকোটে শান্তি ফিরিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।’

প্রসঙ্গত, এক সময় মঙ্গলকোট-কেতুগ্রামেঅনুব্রতের মুখে শোনা যেত বিতর্কিত, শিরোনাম কুড়োনো মন্তব্য—‘চড়াম-চড়াম’, ‘গুড়-বাতাসা’—যা নিয়ে তোলপাড় হত রাজনৈতিক মহল। এ দিনের সভায় সেই পরিচিত ‘ভোকাল টনিক’-এর ঝাঁজ কিছুটা কমই ধরা পড়ল। বরং তুলনামূলক সংযত সুরে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে মঙ্গলকোটে এলাম। এখানকার মানুষকে প্রণাম জানাই।’ একই সঙ্গে পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, একসময় নিয়ম করে এই এলাকায় আসতেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেষ্টর এই প্রত্যাবর্তন, শুধু ভোটপ্রচার নয়, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত মঙ্গলকোটে তাঁর সংগঠনিক দাপট ফিরে পাওয়ার বার্তাও বহন করছে।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!