- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২১, ২০২৬
সহকারী অধ্যাপকদের ভোটের কাজ করতে হবে, কমিশনের নির্দেশেই সিলমোহর হাইকোর্টের
অধ্যাপকদের ভোটের কাজ করতেই হবে। কোনো ভাবেই এর ব্যাতিক্রম হবে না, জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। কলেজ অধ্যাপকদের দিয়ে ভোটের কাজ করানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। সিঙ্গল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ স্থগিত করে জানিয়ে দেওয়া হলো, ভোটের কাজ করতেই হবে তাঁদের। আদালত জানাল, প্রয়োজন পড়লে দেশের সেবা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। তাই দেশের স্বার্থে ভোটের কাজ করতে হবে। কিছু অধ্যাপক গন্ডগোল পাকাতে চাইছেন বলেও মন্তব্য করে আদালত।
কলেজের অধ্যাপকদের কেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে, কেন তাঁদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রথম থেকেই। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন অধ্যাপকদের একাংশ। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছ, তাতে বিচারপতিদেরও ভোটের ডিউটিতে যেতে হতে পারে, কমিশন ঘন ঘন অবস্থান বদল করছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কমিশনের এই নির্দেশের পক্ষে ব্যাখ্যা চেয়ে শেষ পর্যন্ত পাননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। থমকে যায় অধ্যাপকদের ভোটের কাজে অংশগ্রহণ। অগত্যা ডিভিশন বেঞ্চে যায় কমিশন।
মঙ্গলবার সিঙ্গল বেঞ্চের সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত বলে, ‘ভোটের কাজ করতেই হবে অধ্যাপকদের। নির্বাচন স্তব্ধ করে দিতে চাইছেন আপনারা। কিন্তু আপনাদের সে ক্ষমতা নেই। আপনারা একটা গন্ডগোল পাকাতে চাইছেন, যার অনুমতি দেবে না আদালত।’ মামলাকারী অধ্য়াপকদের বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন করেন, ‘দেশের স্বার্থে কাজ করবেন না? যখন প্রয়োজন হবে, দেশের সেবা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আপনারা কোন পদে কাজ করতে চান, সেটাই স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। আপনারা কি অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভার পদে কাজ করতে চান? সেই পদে কাজ করার যোগ্যতামান কি আপনাদের আছে? অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভার পদে কাজ করতে গেলে ভোটের অনেক আগে থেকে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে পঠন পাঠনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এটা তো একদিনের ব্যাপার!’
অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভাররা সাধারণত সরকারি অফিসার হন এবং প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতাও থাকতে হয়। কিন্তু অধ্যাপকরা সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কলেজে পড়ান। ফলে অবজার্ভারদের সঙ্গে তুলনা টানা অনর্থক বলে মত আদালতের। এদিন আদালতে কমিশন জানায়, প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজ করার নির্দেশিকা ২০ মার্চ পাঠানো হয়েছে। কাজে যোগ না দেওয়ায় শো কজ করা হয়েছিল, যার পর ৮ এপ্রিল মামলা করা হয়েছে আদালতে। এতদিন মামলাকারীরা কী করছিলেন, প্রশ্ন তোলেন কমিশনের আইনজীবী। ভোটের সময় এই ধরনের মামলা করে ভোটকে বাধাপ্রাপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করে কমিশন।
এর পর মামলাকারীদের আইনজীবী পদমর্যাদা এবং পে স্কেল অনুযায়ী ভোটের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। অধ্যাপকদের বক্তব্য ছিল, প্রিসাইডিং অফিসারদের উপরে থাকেন সেক্টর অফিসার। কিন্তু পদমর্যাদায় তাঁরা অধ্য়াপকদের থেকে নীচে। যদিও আদালত জানিয়েছে, সেক্টর অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। প্রিসাইডিং অফিসার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে চালানোর কাজ করেন। সেক্টর অফিসারের কাজ বল রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের মধ্য়ে যোগাযোগ এবং সমন্বয় সাধন করা এবং কিছু প্রয়োজন হলে জানানো। সেক্টর অফিসার প্রিসাইডিং অফিসারের উপর খবরদারি করবেন, এমন ভাবার অবকাশ নেই।
❤ Support Us






