- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ২৩, ২০২৬
প্রথম দফার ভোটে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যপরীক্ষা, নন্দীগ্রাম থেকে বহরমপুরে চূড়ান্ত লড়াই। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোট পড়েছে ১৮.৭৬ শতাংশ
সকালটা শুরু হয়েছিল নিঃশব্দ উত্তেজনা দিয়ে। বৃহস্পতিবার, ভোরের আলো ফোটার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন ভোটাররা। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— মোট ১৬টি জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে চলছে গণতন্ত্রের এই বৃহৎ উৎসব। বিচ্ছিন্ন কিছু অশান্তির খবর মিললেও সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই এগোচ্ছে ভোটপর্ব, এমনটাই দাবি নির্বাচন কমিশনের।
তবে শান্তিপূর্ণ ভোট মানেই রাজনৈতিক উত্তাপ নেই, এ কথা বলা যাবে না। বরং প্রথম দফাতেই বহু হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ। ফলে সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের নজর ঘুরে যাচ্ছে এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে। সবচেয়ে বেশি চর্চা, প্রত্যাশিতভাবেই, নন্দীগ্রামকে ঘিরে। গতবারের মতো এ বারও সেখানে প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের পবিত্র কর, যাঁর রাজনৈতিক অতীত আবার বিজেপির সঙ্গেই জড়িয়ে। দলবদলের জটিল সমীকরণ নন্দীগ্রামকে আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এনে ফেলেছে।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে নজর কাড়ছেন অধীর চৌধুরী। লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পরও যে তিনি রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে যাননি, তা প্রমাণের লড়াই আজকের এই ভোট। একই জেলার সাগরদিঘিতে আরও এক নাটকীয় লড়াই, কংগ্রেস থেকে জিতে পরে তৃণমূলে যাওয়া বাইরন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী। দলবদলের অভিঘাত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই কৌতূহল। রেজিনগর ও ডোমকল— এই দুই কেন্দ্রেও সমানভাবে জমে উঠেছে লড়াই। দুই হুমায়ুন কবীর, দুজনেই একসময় তৃণমূলের অংশ ছিলেন, এখন মুখোমুখি। এক জন নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করে লড়ছেন, অন্য জন আসন বদলে নতুন সমীকরণে। ব্যক্তিগত প্রভাব বনাম দলীয় শক্তি, এই সংঘর্ষই মূল আকর্ষণ।
দীর্ঘ বিরতির পর খড়্গপুর সদরে ফের প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ ও গৌতম দেবের লড়াইও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রাজগঞ্জে প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে নজরে। অন্যদিকে দিনহাটায় উদয়ন গুহ, সবংয়ে মানসরঞ্জন ভুঁইয়া, আসানসোল উত্তরে মলয় ঘটক, বিনপুরে বিরবাহা হাঁসদা এবং সুজাপুরে সাবিনা ইয়াসমিন—মন্ত্রীদের এই লড়াইও সমান তাৎপর্যপূর্ণ। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে পরেশ অধিকারী, মাথাভাঙায় নিশীথ প্রামাণিক, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে অর্পিতা ঘোষ, মালতীপুরে মৌসম বেনজির নুর এবং ময়নায় অশোক দিন্দা— এই সব কেন্দ্রেও ফলাফলের দিকে কৌতূহলী নজর। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে অখিল গিরি, এগরায় দিব্যেন্দু অধিকারী এবং ডেবরায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়—এই কেন্দ্রগুলিও রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাম শিবিরের পক্ষ থেকেও নজর কাড়ছেন কয়েক জন প্রার্থী। কেশপুরে শিউলি সাহা এবং রানিবাঁধে দেবলীনা হেমব্রমের কেন্দ্র নজরে রয়েছে। বিজেপির হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল, জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও প্রথম দফার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বীরভূমে কাজল শেখের লড়াইও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কৌতূহলের কেন্দ্রে। পরিসংখ্যান বলছে, গত নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৯২টি, বিজেপি ৫৯টি এবং কালিম্পংয়ে জয়ী হয়েছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। ফলে এ বারের লড়াইয়ে কার দখল মজবুত হয়, তা দেখার অপেক্ষা।
ভোটের হারও সকাল থেকেই গতিময়। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোট পড়েছে ১৮.৭৬ শতাংশ। বাঁকুড়ায় সবচেয়ে বেশি—২২.০৫ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম কোচবিহার দক্ষিণে—১৫.৫৭ শতাংশ। নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে ১৯.১১ শতাংশ, বহরমপুরে ১৯.৮৮ শতাংশ। জেলা হিসেবে এগিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর—২০.৫১ শতাংশ, তার পরেই বাঁকুড়া। সবচেয়ে পিছিয়ে মালদহ—১৬.৯৬ শতাংশ। এদিকে, সকাল ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দফতরে জমা পড়েছে ২৬০টি অভিযোগ। ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল।
❤ Support Us





