- দে । শ
- এপ্রিল ২৩, ২০২৬
হলফনামার জন্য রাতভর লাইন, কালনায় নথি সংশোধনে চরম ভোগান্তি
হলফনামা পেতে রাত জাগছে কালনা। পূর্বস্থলীর নিমতলার বাসিন্দা ভুবনেশ্বরের সঙ্গে রাতভর লাইনে দাঁড়ানো আরও বেশ কয়েকজন হলফনামা নিতে এসেছেন। রোজ শতাধিক মানুষ হলফনামা চাইছেন। নথি সংশোধনের জন্য দরকার জুডিসিয়াল এফিডেবিট। কিন্তু বিচারকরা এসআইআর-র কাজে ব্যস্ত থাকায় আদালতে বিচারকের সংখ্যা হাতেগোনা। ফলে হলফনামা পেতে চরম হয়রানিয় শিকার হচ্ছেন বাসিন্দারা।
আদালত সূত্রের খবর, রোজ ২০টি করে হলফনামা তৈরি হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে লাইন পড়ছে। আগে আসার ভিত্তিতে ২০ জনকে টোকেন দেওয়া হচ্ছে। আর এই টোকেন পেতেই আগেরদিন রাত থাকতে থাকতে লাইন দেওয়া শুরু হচ্ছে। দুপুর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে সারারাত জেগে পরদিন মিলছে টোকেন। তা যে কতখানি কষ্টকর, সে অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন কালনার বৃদ্ধপাড়ার বাসিন্দা আব্বাস আলি শেখ। আব্বাসের স্ত্রী ডালিয়ার নাম ওঠেনি ভোটার তালিকায়। সে নথি সংশোধনের জন্য আগের দিন রাত ১২টার সময় লাইন দিতে গিয়ে দেখেন ২০ জন দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আর বাড়ি না ফিরে পরদিন সকালে স্থানীয় একটি হোটেলে ভাত খেয়ে দুপুর থেকে লাইন দিয়েছেন। বললেন, ‘আজও রাতটা জাগতে হবে। তাহলে কাল সকালে টোকেন পেয়ে যাব।’
রোজ মাত্র ২০টি করে হলফনামা তৈরির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেন কালনা মহকুমা আদালতের প্রবীণ আইনজীবী মলয় পাঁজা। বললেন, ‘কালনা মহকুমায় ৪টি থানা। রোজ থানা পিছু ২০টি হলফনামা হলে ঠিক হত। কিন্তু গোটা মহকুমা থেকে একদিনে মাত্র ২০টি হলফনামা দেওয়ায় গরমে মানুষ চরম কষ্টের শিকার হচ্ছেন। রাত জেগে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ কালনা বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অরুণাভ হালদার জানান, ‘রোজ যা হলফনামা হচ্ছে, চাহিদা অন্তত তার ৬ গুণ। তাই মানুষ এত হয়রান হচ্ছেন। আমরা অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বিষয়টি বিচারকদের নজরে আনব।’ প্রশাসনের তরফে বিষয়টি জেলাশাসকের নজরেও আনা হচ্ছে।
❤ Support Us





