Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ২৩, ২০২৬

রেকর্ড ভোট ! ৯২ শতাংশ ছুঁয়ে জাতীয় নজিরের পথে বাংলার প্রথম দফা। ‘জয় নিশ্চিত’ মন্তব্য মমতার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রেকর্ড ভোট ! ৯২ শতাংশ ছুঁয়ে জাতীয় নজিরের পথে বাংলার প্রথম দফা। ‘জয় নিশ্চিত’ মন্তব্য মমতার

দেশের সব রেকর্ড ভেঙে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়ল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯১ শতাংশ। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই কারণে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে শান্তিতে নির্বাচন করা ও রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়ার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও জলপাইগুড়ি , কোচবিহারে বুথের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন রয়েছে।

রাজ্যে প্রথম দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে শমসেরগঞ্জ আসনে। সেখানে ভোটদানের হার ৯৫.৩৪ শতাংশ। ভগবানগোলায় ভোট পড়েছে ৯৫.৩১ শতাংশ। নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে ৯০.০৩ শতাংশ। বহরমপুর আসনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৯.৬০ শতাংশ। প্রথম দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের হার দক্ষিণ দিনাজপুরে— ৯৩.১২ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কালিম্পং-এ — ৮১.৯৮ শতাংশ।

ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই ২০২১ সালের বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোটদানের হারকে অনেকটা ছাপিয়ে গেল এ বারের বিধানসভা নির্বাচন। ১৫২ আসনে প্রথম দফার ভোট চলছে, সেগুলিতে ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৩.২ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভায় ৭৯.৮ শতাংশ। এ বার বিকেল ৫টার মধ্যেই সেই সব হার ছাপিয়ে ৮৯.৯৩ শতাংশ হয়ে গেল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ছে ৯২ শতাংশ। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে এর কাছাকাছি হার বজায় থাকলেই পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে দেবে ভোটদানের যাবতীয় সর্বভারতীয় নজির।

এদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৌবাজারের জনসভা থেকে এই ভোটের হারের প্রসঙ্গে বলেছেন, “এসআইআর -এর ফলে মানুষ ভেবেছে এবার ভোট দিতে না গেলে তাদের ভোটাধিকার চলে যাবে। ঘর-বাড়ি-জীবন-জীবিকা সব চলে যাবে। তাই মানুষ বেশি বেশি করে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে।” তবে এই বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধযায় বলেছেন, “যদি আমি ভুল বলে না থাকি।”

এদিন রাজ্যে প্রথম দফা ভোট থাকা সত্ত্বেও দিনের দ্বিতীয় ভাগে একাধিক প্রচার কর্মসূচি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চৌরঙ্গী ও যাদবপুরে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা এবং ভবানীপুরে পদযাত্রা ছিল তৃণমূল নেত্রীর। প্রথম সভা চৌরঙ্গী থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সভা নিয়ে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভোটের দিনও টেলিপ্রম্পটার দেখে প্রচার করতে এসেছেন বাংলায় ! আসলে এসেছেন হাওয়া গরম করতে। বিজেপির এজেন্ট তো নেই। ওটা তো এজেন্সি হয়ে গেছে। এখানে এতগুলো আসনে ভোট হচ্ছে আর ভোটের দিন বলছেন আপনারা জিতছেন ! কীভাবে বলছেন ? এটা তো জনগণ ঠিক করবেন।”

যাদবপুরের যুব সংঘের মাঠের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহকে নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যে ভোট হচ্ছে দাঙ্গাবাবু সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছেন। মণিপুরে ৩ বছর ধরে অশান্তি হল সেখানে কেন গেলে না ?”

যুবসংঘের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। জন্মিলে মরিতে হবে। তবে আমি আগামী তিনটে প্রজন্ম তৈরী করে দিয়েছি। আমি চলে গেলেও তারা থাকবে। এবার অনেক তরুণ-তরুণী প্রার্থী হয়েছেন।”

তিনি ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধির আমলে যাদবপুর থেকে লোকসভা আসনে জিতে প্রথম সাংসদ হন, সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “আমি সাংসদ হয়ে সারাদিন সংসদে অধিবেশন চলাকালীন বসে থাকতাম। আমায় স্পিকার বলরাম জাখর বলতে দিয়েছিলেন।”

মোদি-শাহকে নিশানা করে এদিন যুবসংঘের সভা থেকে মমতা বলেন, “ওয়াশিং মেশিন কিনেছ বলে ভাবছো যা ইচ্ছে তাই করবে? ৯১ লক্ষ লোকের নাম কেটেছ। শুনে রাখো, এই যে বেশি ভোট পড়েছে ওই ভোটে আমিই জিতবো।”

মমতা বলেন, “৪ তারিখ বুঝবে। ভোটের ফল বার হলে দেখবে হাত জ্বলছে। ওদের নামটা বলতে আমার ভালো লাগে না। ওরা ভালো থাকে। মনে রাখবেন যারা প্রশাসনে থাকে তাদের নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হয়। এরকম ভ্যানিশ কুমার আমি জীবনে দেখিনি। এসআইআর-এ নাম কাটলো কেন ?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি-শাহকে নিশানা করে বলেন, “আপনারা বাংলাকে বলছেন অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা। বস্তি। এসব বলার আগে আপনার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। মিথ্যা কথা বলে বলছে আমরা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করতে দিইনি। ওই বিল ২০২৩ সালে পাশ হয়ে গেছে। আড়ালে ডিলিমিটেশন করে দেশটাকে টুকরোটুকরো করতে চাইছে। মনে রাখবেন বাংলাকে আক্রমণ করলে আমি চুপ করে বসে থাকবো না। যখন কাশ্মীরে পাহেলগাওঁ, পুলওয়ামাতে পর্যটক, পুলিশ মরে তখন তোমার সিআরপিএফ, বিএসএফ, সাঁজোয়া গাড়ি কোথায় থাকে ? ভোটের আগে বাংলায় সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছে ?”

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!