Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ১১, ২০২৬

নতুন মন্ত্রিসভায় শুরু দফতর বণ্টন, দিলীপ–অগ্নিমিত্রাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, কৃষি মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নতুন মন্ত্রিসভায় শুরু দফতর বণ্টন, দিলীপ–অগ্নিমিত্রাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, কৃষি মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই

ব্রিগেড ময়দানে শপথ গ্রহণের পর রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা ঘিরে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তার পরবর্তী অধ্যায় হিসেবে শুরু হলো নতুন সরকারের দফতর বণ্টন পর্ব। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বণ্টনের কাজ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দফার এ তালিকায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মুখদের ওপর প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই নবীনদেরও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব দিয়ে ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিয়েছে শাসক শিবির। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও ছিলেন ওই বৈঠকে। শুভেন্দু জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে। একই সঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলাও সে পথেই এগোবে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধিকারী। তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় যাঁরা শপথ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি পেয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁর কাঁধে এসেছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, গ্রামীণ প্রশাসন ও স্থানীয় উন্নয়নের মতো সংবেদনশীল দপ্তরে তাঁকে দায়িত্ব দিয়ে সংগঠনকে মজবুত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু কল্যাণের পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। শহরাঞ্চলের উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র একসঙ্গে তাঁর হাতে আসায় প্রশাসনিক দায়িত্বের পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বঞ্চনার অভিযোগ উঠছে, সে প্রেক্ষিতে এ দফতর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হাতে যাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও নতুন নীতি-পরিকল্পনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ দাবি করেন, অতীতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ও গুরুত্বে অসাম্য ছিল। তাঁর কথায়, কলকাতায় একটি উড়ালপুল নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হত, অনেক সময় সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সেই তুলনায় কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলেই আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন ব্যবস্থায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে আর কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। উত্তরবঙ্গও রাজ্যের অন্যান্য অংশের সমান গুরুত্ব পাবে এবং সমানভাবে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন বনগাঁ উত্তর বিধানসভার বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। রাজ্যের জনবণ্টন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরে তাঁর নিয়োগকে অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে। জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে এই দপ্তরের ভূমিকা আগামী দিনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং তথ্য-সম্প্রচার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে সরকার পরিচালনার কাঠামো সুসংহত করতেই এই সিদ্ধান্ত। বিধানসভায় প্রথমে প্রোটেম স্পিকার নির্বাচন ও সব বিধায়কের শপথ এ সপ্তাহে হয়ে যাওয়ার কথা। তার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হবে। ফলে, মন্ত্রিসভার প্রথম দফার বৈঠক শেষে প্রশাসনিক অন্দরে শুরু হয়েছে জল্পনা—পরবর্তী সম্প্রসারণে আরও কোন নতুন মুখ যুক্ত হতে চলেছে এবং দপ্তর বণ্টনের ভারসাম্যে কোনো বড়ো পরিবর্তন আসে কি না, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!