Advertisement
  • দে । শ
  • মে ১২, ২০২৬

রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে বড় রদবদল। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আইএএস অফিসার মনোজ আগরওয়াল। সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এতদিন তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) পদে কর্মরত ছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার উপর ভরসা রেখেই তাঁকে এবার রাজ্যের সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পদে বসানো হল।
মনোজ আগরওয়াল দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনায় তাঁর কঠোর মনোভাব, নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচন ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। রাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, কড়া নিরাপত্তা এবং একাধিক সংবেদনশীল বুথের নজরদারি—সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরিস্থিতিতে রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ভোটের দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কড়া নজরদারি চালানো হয়। ওয়েবকাস্টিং, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করা হয়। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই গোটা ব্যবস্থাপনায় মনোজ আগরওয়ালের পরিকল্পনা এবং সমন্বয় ছিল অত্যন্ত কার্যকর। ফলে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাও তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কারণ মুখ্যসচিব পদ শুধু প্রশাসনিক প্রধান নয়, সরকারের নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের আমলাতন্ত্রকে পরিচালনা করা, বিভিন্ন দফতরের কাজের সমন্বয় রাখা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব মুখ্যসচিবের উপরেই থাকে। সেই জায়গায় মনোজ আগরওয়ালের অভিজ্ঞতা সরকারকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই এই নিয়োগ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, নির্বাচনী দায়িত্ব সফলভাবে সামলানোর পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। আবার বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
মনোজ আগরওয়ালের সামনে এখন একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করা, শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা নজরে থাকবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, শান্ত ও কৌশলী প্রশাসক হিসেবে মনোজ আগরওয়ালের ভাবমূর্তি সরকারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতি বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!