- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২৬, ২০২৬
প্রশাসনে গতি আনতে বড় সিদ্ধান্ত: ১০০ দিনের কাজ চালুর নির্দেশ, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগ
রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ সামনে এসেছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হল, রাজ্যে ফের চালু করা হবে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প। তবে আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রকল্প শুরু করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুই জেলা বাদ দিয়ে রাজ্যের বাকি সমস্ত জেলায় দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে ওই দুই জেলায়। সেই অভিযোগের তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্নীতির অভিযোগের জেরেই একসময় কেন্দ্র সরকার পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকার জানিয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই জেলার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হবে।
এদিকে প্রশাসনিক কাজে দ্রুততা আনতে এখন থেকে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে সব দফতরের সচিবদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে আগের সরকার প্রকল্পটির কাজ শুরু করলেও বাস্তবে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি বলে প্রশাসনিক মহলের মত। সেই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের ব্যয় ৫০ শতাংশ করে বহন করবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী আর্থিক বরাদ্দ এবং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতে পারে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৮ জুনের মধ্যেই এই সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প কার্যকর করার ক্ষেত্রে আর কোনও বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নীতি আয়োগের বৈঠককে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব দফতরকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য ও প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সোমবারের নবান্ন বৈঠক থেকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আরও সক্রিয়, দ্রুত এবং সমন্বিত ভূমিকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার।
❤ Support Us






