- দে । শ
- মে ২৬, ২০২৬
ভোটে ‘কারচুপির’ অভিযোগ, আইনি পথে মোকাবিলার প্রস্তুতি তৃণমূলের । অনীহা বহু পরাজিত প্রার্থীর
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে মেনে নিতে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেস। ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে আসছেন, বহু কেন্দ্রে গণনার সময় ‘লুট’ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্তত ১৫০টি আসনে জোর করে ফল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার ফেসবুক লাইভেও তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, দল আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে ৫০টিরও বেশি আসনে মামলা করার মতো তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে বহু পরাজিত প্রার্থীর অনীহার কারণে। কারণ নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেকেই এই আইনি লড়াইয়ে নামতে চাইছেন না।
বিশেষ করে প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তী-কে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, তাঁর জুনিয়র আইনজীবী স্নেহাশিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নির্বাচনী পিটিশনের বিষয়ে। কিন্তু স্নেহাশিস রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং মামলায় আগ্রহ দেখাননি।
এ প্রসঙ্গে কল্যাণের কটাক্ষ, “২০১১ সালের আগে জাঙ্গিপাড়ায় কেউ ঢুকতে পারত না। আমি ২০০৯ সালে জেতার পর ও ২০১১ সালে জিতল। ১৫ বছর ধরে সব ভোগ করল, আর এখন পালিয়ে যাচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেছে, তারাই এখন সরে দাঁড়াচ্ছে।”
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মোবাইলে পাঠানো বার্তার উত্তরে শুধুমাত্র ‘না’ লিখে জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি পেশায় আইনজীবী এবং এবারের নির্বাচনে উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন, পরাজয়ের পরেও সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার প্রস্তুতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। ফল প্রকাশের পর থেকে নিয়মিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে জেলা থেকে আসা রিপোর্ট সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, একাধিক কেন্দ্রে ইভিএম সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও অভিযোগ করেছেন, বহু ক্ষেত্রে ইভিএমের সিল করা ১৭-সি ফর্মের নম্বরের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভোটযন্ত্রের অতিরিক্ত চার্জ থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দল।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল। তবে দলের অন্দরেই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা, বহু পরাজিত প্রার্থী যদি আইনি প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন, তাহলে নির্বাচনী পিটিশনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।
❤ Support Us





