Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৩০, ২০২৬

মহিলা ও শিশু স্বাস্থ্যে অগ্রগতির দাবি জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহিলা ও শিশু স্বাস্থ্যে অগ্রগতির দাবি জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষায়

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৬ (এনএফএইচএস-৬) প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে পরিচালিত এই সমীক্ষার নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্স। দেশের ৭১৫টি জেলায় ৬ লক্ষ ৭৯ হাজার পরিবারের উপর সমীক্ষাটি চালানো হয়। সমীক্ষার ফলাফলে স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে । যদিও দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার সামগ্রিক চিত্র আশাপ্রদ নয় ।

সমীক্ষা অনুযায়ী, মা ও শিশুস্বাস্থ্য পরিষেবার মান আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। বর্তমানে ৯৫.৯ শতাংশ গর্ভবতী মহিলা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছেন। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার ৮৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একইভাবে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে প্রসবের হার ৮৯.৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯১.৩ শতাংশ হয়েছে।

গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে । গর্ভাবস্থায় ১০০ দিন বা তার বেশি সময় আয়রন-ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারী মহিলার হার ৪৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৪.৯ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, ১৮০ দিন বা তার বেশি সময় এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারী গর্ভবতী মহিলার হার বর্তমানে ৩৭.৮ শতাংশ।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সাফল্যের উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে । শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান, প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা ২.০। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে গর্ভাবস্থা ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে সমীক্ষায় প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে ৬৯.১ শতাংশ পরিবার পরিবার-নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে, যা আগে ছিল ৬৬.৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারের মিশন পরিবার বিকাশ সহ বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে।

শিশুদের টিকাকরণেও সাফল্যের ধারা বজায় রয়েছে। ১২ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের পূর্ণ টিকাকরণের হার ৮৩.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৭.১ শতাংশ হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ৯৫.৬ শতাংশ শিশু টিকা গ্রহণ করেছে, যা সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

শিশু পুষ্টির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। বর্তমানে ছয় মাসের কম বয়সী ৯৫.৬ শতাংশ শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। তিন বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ৪১.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০.১ শতাংশে পৌঁছেছে। বয়সের তুলনায় কম উচ্চতাসম্পন্ন (স্টান্টেড) শিশুর হার ৩৫.৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯.৩ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে উচ্চতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগা (ওয়েস্টেড) শিশুর হার ৭.৭ শতাংশ থেকে কমে ৫.২ শতাংশে নেমে এসেছে। পোষণ অভিযান, সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি এবং পোষণ ২.০ -র মতো প্রকল্পগুলির ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিমার আওতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ৭২ শতাংশ পরিবার কোনও না কোনও  স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে পূর্ববর্তী সমীক্ষায় এই হার ছিল ৪১ শতাংশ। আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা সহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মহিলাদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। বর্তমানে ৬৪.৩ শতাংশ মহিলা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা আগে ছিল ৩৩.৩ শতাংশ। ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে এমন মহিলার হার ৭৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী মহিলার হার ৫৩.৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

এছাড়া, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবহারের হার ৭৭.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯.২ শতাংশ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কিশোর স্বাস্থ্য কার্যক্রম-এর আওতায় পরিচালিত মেন্সট্রুয়াল হাইজিন স্কিম এবং প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধী পরিযোজনা-র মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৬-এর ফলাফল ইঙ্গিত করছে যে, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে আরও একধাপ এগিয়েছে।

যদিও বাস্তব ক্ষেত্রে দেশের  চিকিৎসা পরিষেবার হার আশাপ্রদ নয় । স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, মহিলাদের শারীরিক এবং মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে খামতি রয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!