- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৩০, ২০২৬
সোমবারই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথ? অর্থ ও স্বরাষ্ট্র দফতর মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকার ইঙ্গিত
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে? প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী সোমবার শপথ নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যেরা। রাজভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ৩৩ থেকে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রায় এক মাস ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্পষ্ট হয়ে যাবে নতুন সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখা।
গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন আরও ৫ জন মন্ত্রী। কিন্তু অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বভার খালি ছিল। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই ছিল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা কবে গড়বে সরকার এবং কোন নেতার হাতে যাবে কোন দফতর।
সূত্রের খবর, সোমবারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে রাজনৈতিক ভারসাম্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, রাঢ়বঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং সীমান্তবর্তী জেলার প্রতিনিধিদের জায়গা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে মহিলা বিধায়কদেরও উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব, এ দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়েই তৈরি করা হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা।
সবচেয়ে বেশি কৌতূহল অবশ্য অর্থ দফতর ঘিরেই। দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। এমনকি নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও এক সময়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, আপাতত অর্থ দফতর নিজের হাতেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। শুধু অর্থ নয়, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকতে পারে বলে খবর।
নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে রাজ্যের আর্থিক পুনরুদ্ধার, শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বিজেপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝা, বিনিয়োগের ঘাটতি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পূর্ণ মাত্রায় কাজে না লাগানোর ফলে রাজ্যের অর্থনীতি চাপে পড়েছিল। সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তৈরি করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এ কারণেই অর্থ দফতরের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, স্বরাষ্ট্র দফতরও আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতর বণ্টন নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে শাসক শিবিরের অন্দরে। সূত্রের দাবি, স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক-রাজনীতিকের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। অন্য দিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন এক ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বিধায়কের হাতে যেতে পারে শিক্ষা দফতর। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি নবান্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র মন্ত্রীদের নাম ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে নতুন সরকারের প্রশাসনিক দর্শন, অগ্রাধিকার এবং আগামী ৫ বছরের উন্নয়ন-পরিকল্পনার রূপরেখা।
❤ Support Us





