- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৩০, ২০২৬
কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফের ত্রুটি ! একাধিক কেন্দ্রে যান্ত্রিক গোলযোগে থমকাল ‘কুয়েট’, সময় বদলের বিজ্ঞপ্তি এনটিএ-র
প্রবেশিকা পরীক্ষা ঘিরে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির। ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি, এরই মধ্যে দেশের আরেকটি অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার দিনে বড়োসড়ো প্রযুক্তিগত বিপর্যয়। নির্ধারিত সময়ে শুরু করা গেল না ‘কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট ফর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট’ বা ‘কুয়েট’ পরীক্ষা। শনিবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত গোলযোগের জেরে পরীক্ষার সূচিতে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে সকাল থেকেই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের সময়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় এনটিএ।
এনটিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, তাদের প্রযুক্তি-সহযোগী সংস্থা টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ৩০ মে কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘কুয়েট-ইউজি’ পরীক্ষা শুরুতে দেরি হয়। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণমূলক সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শনিবারের পরীক্ষা দুটি পর্বে হওয়ার কথা ছিল। সকাল ৯টায় প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হওয়ার নির্ধারিত সূচি থাকলেও বহু কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু কেন্দ্রে পরীক্ষার সূচনা ২ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে হয়। কম্পিউটার-ভিত্তিক এই পরীক্ষার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোয় সমস্যা দেখা দেওয়াতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ বিবৃতি প্রকাশ করে এনটিএ। সেখানে জানানো হয়, টিসিএস তাদের কাছে প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে এনটিএ জানিয়েছে, সকালের শিফটে যাঁরা পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের পুরোটা দেওয়া হবে। পরীক্ষার সময় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরোতে দেওয়া হবে না। সকালের গোলযোগের সরাসরি প্রভাব পড়ে দিনের দ্বিতীয় শিফটেও। মূল সূচি অনুযায়ী দুপুর ৩টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে বিকেল ৪টেয় করা হয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। অর্থাৎ রিপোর্টিংয়ের সময় অপরিবর্তিত থাকলেও পরীক্ষার সূচনা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা। এনটিএ জানিয়েছে, ‘পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ চলতি বছর কুয়েট-ইউজি পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন ১৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮৬৬ জন পরীক্ষার্থী। ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশিকা পরীক্ষার দিনে প্রযুক্তিগত গোলযোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ তৈরি হয় পরীক্ষার্থী থেকে শিক্ষামহল সর্বত্র। বহু পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবক সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এ বারের ‘কুয়েট’ পরীক্ষার সূচি নিয়ে এর আগেও পরিবর্তন করতে হয়েছিল এনটিএ-কে। প্রথমে ২৮ মে পরীক্ষার দিন নির্ধারিত থাকলেও বকরি ইদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির তারিখ পরিবর্তনের কারণে ওই দিনের উভয় শিফটের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে এনটিএ জানায়, ২৮ মে-র স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলি ৬ এবং ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে। সে সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের ঘটনা সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরীক্ষার্থী মহলে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে চালু হওয়া ‘কুয়েট-ইউজি’ বর্তমানে দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি একাধিক রাজ্য ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের ভর্তির অন্যতম প্রধান প্রবেশিকা পরীক্ষা। ভাষাগত দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং সাধারণ যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। সে পরীক্ষার দিনেই এমন প্রযুক্তিগত বিপত্তি ভবিষ্যতে অনলাইন পরীক্ষার পরিকাঠামো এবং প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনটিএ পরীক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসার জন্য হেল্পলাইন নম্বর (+৯১-১১-৪০৭৫৯০০০) এবং নির্দিষ্ট ই-মেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে আপাতত কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটিয়ে পরীক্ষার বাকি পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
❤ Support Us






