Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৩০, ২০২৬

ভোট-পরবর্তী হিংসার ইস্যুতে ২ জুন ধর্মতলায় মমতার ধর্না

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোট-পরবর্তী হিংসার ইস্যুতে ২ জুন ধর্মতলায় মমতার ধর্না

ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগকে সামনে রেখে আগামী ২ জুন ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে ধর্না কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, ওই দিন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন তিনি। একই দিনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমে গিয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করবেন।

তবে অভিষেকের এই কর্মসূচি ২ জুনের আগেই শুরু হচ্ছে। শনিবার তিনি বেলেঘাটা এবং সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষতিগ্রস্ত সংগঠনের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের মনোবল বাড়াতেই এই উদ্যোগ।

ধর্মতলায় অবস্থান কর্মসূচির জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল। যদিও অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয় রয়েছে। কারণ, এর আগে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার তিনটি পৃথক স্থানে অনুষ্ঠান করার আবেদন জানালেও সেই অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ।

উল্লেখ্য, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। ভবানীপুর কেন্দ্রেও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। এরপর থেকেই কালীঘাটের বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন মমতা। এবার তিনি সরাসরি রাস্তায় নেমে আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচনী পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে। দলের একাংশ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে—আন্দোলনের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠনের পথে হাঁটবেন কি না মমতা। সেই প্রেক্ষাপটেই জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে একযোগে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা ও অভিষেক।

অন্যদিকে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর মধ্যেই উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দু’দফা বৈঠক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এছাড়া বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহাও।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠনের ভিতরে অসন্তোষ এবং বাইরে রাজনৈতিক চাপ—দুই দিক থেকেই বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি বিধানসভায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না পড়ায় এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের স্বীকৃতিও পায়নি তৃণমূল। এই অবস্থায় ২ জুনের ধর্মতলা কর্মসূচি এবং অভিষেকের জেলা সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের নতুন বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করবে তৃণমূল নেতৃত্ব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!