Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২, ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেশে ফিরছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা। বিমানবন্দরেই গ্রেফতারের আশঙ্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেশে ফিরছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা। বিমানবন্দরেই গ্রেফতারের আশঙ্কা

কয়েক সপ্তাহ সপ্তাহ আগে সমাজমাধ্যমে জন্ম হয়েছিল ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগের। সেই  ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন লক্ষ লক্ষ তরুণের ক্ষোভহতাশা আর প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে দাবি সমর্থকদের। কেবল তরুণ নয়, চাকরিজীবী থেকে ব্যবসায়ী, গৃহিণী থেকে সমাজকর্মী এমনকি মূল ধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সমর্থন পেয়েছে সংগঠনটি।  দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ বার দেশে ফিরতে চলছেন। ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরাসরি রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছেন। ৬ জুন দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষণা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেনভারতে পা রাখামাত্র তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

আমেরিকার বোস্টনে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির সন্ধানে ছিলেন দীপকে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর জীবন আমূল বদলে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি’-র বিস্ফোরক উত্থান তাঁকে এক লহমায় জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তাঁর দাবিআমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক বহুজাতিক সংস্থা থেকে চাকরির প্রস্তাবও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলি ফিরিয়ে দিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, ‘সময় এসেছে আমরা সবাই একজোট হওয়ার। ভারতের সংবিধানের পথ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি তুলতে হবে। আমরা যদি একসঙ্গে আওয়াজ তুলিতবে তাঁদের শুনতেই হবে।

দীপকের বক্তব্যগত কয়েক মাসে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কে ছাত্রসমাজের মধ্যে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ‘নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসকুয়েট পরীক্ষার অসংগতিসিবিএসই-র ফলপ্রকাশ নিয়ে বিতর্ক এবং এসএসসিজিডি পরীক্ষার্থীদের অভিযোগকে সামনে এনে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকারের দাবি তুলেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘নিটের ২২ লক্ষসিবিএসই-র ১৭ লক্ষকুয়েটের ১৬ লক্ষ এবং এসএসসিজিডি-র ৪০ লক্ষ পরীক্ষার্থী— এক কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে। তাঁরা উদ্বিগ্নআতঙ্কিত। কিন্তু ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় কেউ নিচ্ছেন না।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এত বড়ো ব্যর্থতার পরেও যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করেনতবে কি এ দেশে আর কোনো জবাবদিহি অবশিষ্ট রয়েছে?’

নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনাও বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কথায়৬ জুন সকালে দিল্লিতে পৌঁছবেন তিনি। বিমানবন্দর থেকেই সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন। সেখানে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাওয়া হবে। ভারতের সংবিধান আমাদের শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেই আমরা আন্দোলন করব।’ বলেন ‘ককরোচ’ দলের নেতা। তবে আন্দোলনের ঘোষণার পাশাপাশি গ্রেফতারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি তিনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘সম্ভবত বিমানবন্দরেই আমাকে গ্রেফতার করা হবে।’ তাঁর দাবিগত কয়েক দিনে পরিবার-পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী-বন্ধুদের কাছ থেকে এ নিয়ে উদ্বেগের কথা শুনেছেন। এর আগে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবু তিনি পিছিয়ে যেতে নারাজ।

অভিজিৎ বলেছেন, ‘আমার বাবা-মা চিন্তিত। তাঁদের আশঙ্কাআমাকে বিমানবন্দর থেকেই জেলে পাঠানো হতে পারে। কিন্তু আমরা আর কত দিন ভয় নিয়ে বাঁচবএ দেশ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নয়। এই দেশ আমাদের সবার। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই নীরব থাকার সময় শেষ।’ আন্দোলনের চরিত্র নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ‘সিজেপি আপাতত কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি রাজনৈতিক যুব আন্দোলন। বেকারত্বমূল্যবৃদ্ধিশিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং তরুণদের ক্রমবর্ধমান হতাশাকে কেন্দ্র করেই এর বিস্তার ঘটছে। আমরা এক ধাপ করে এগোচ্ছি। দেশে ফেরার পর সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পথ নির্ধারণ হবে…’ বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিজিৎ। তবে বর্তমান আন্দোলনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই, কোনো বিরোধী নেতাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও আন্দোলনের দাবির প্রতি বৃহত্তর সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন বহু মূলধারার নেতারা। এদিকে সিজেপি-কে ঘিরে বিতর্কও ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ভারতে সিজেপি-র এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯(এ) ধারায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে। এর বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দীপকে। তাঁর দাবিঅ্যাকাউন্ট ব্লক করার সিদ্ধান্ত অন্যায্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

অন্যদিকে, ‘সিজেপি-র বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট এবং এলাহাবাদ হাই কোর্টেও একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এলাহাবাদ হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় সিজেপি-র বিরুদ্ধে বহুসংস্থার তদন্তসমাজমাধ্যমের সমস্ত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং অভিজিৎ দীপকেকে আমেরিকা থেকে ভারতে প্রত্যর্পণের দাবিও তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, ‘আরশোলা’-দের এই সংগঠন বিদেশি অর্থপুষ্ট ডিপ স্টেট’ প্রকল্পযা ভারতের সার্বভৌমত্বঅখণ্ডতা আর নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এমনকি প্রাক্তন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে এই আন্দোলনের অদৃশ্য হাত’ বলেও দাবি করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, এ দলের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর অনুসারীদের সরকার, বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছেনযা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য।  যদিও অভিজিৎ বার বার দাবি করেছেনতাঁর আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংসসাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   

সব মিলিয়ে সমাজমাধ্যমে জন্ম নেওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ এখন জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। ৬ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে অভিজিৎ দীপকের প্রত্যাবর্তন ঘিরে তাই শুধু তাঁর সমর্থকরাই নয়নজর রাখছে প্রশাসনরাজনৈতিক মহল এবং দেশের ছাত্র-যুবরা। তাঁর আশঙ্কা সত্যি হয়ে বিমানবন্দরেই গ্রেফতারি ঘটে কি নাঅথবা যন্তর মন্তরের আন্দোলন আদৌ অনুমতি পায় কি নাতা নিয়েই এখন জোর জল্পনা রাজধানী থেকে সমাজমাধ্যমের অন্দরে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!