- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২, ২০২৬
‘ওএসএম’ বিতর্কে চাপে সিবিএসই, পোর্টাল বিভ্রাটে পুনর্মূল্যায়ন ঘিরে অনিশ্চয়তা। চেয়ারপার্সন-সচিবকে তলব সংসদীয় কমিটির
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-র নতুন ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। ক্লাস ১২ ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ কেন্দ্রীয় বোর্ড— কখনো কম নম্বর, কখনো উত্তরপত্রে অস্পষ্টতা, কোথাও আবার পৃষ্ঠা অনুপস্থিত, আবার কোথাও মূল্যায়ন ও নম্বর গণনায় গুরুতর বিভ্রাট। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিবিএসই পোর্টালের ত্রুটি ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রবেশের সমস্যা, যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে।
এহেন টানাপোড়েনের আবহে বিষয়টি সরাসরি সংসদীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সংসদের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি সিবিএসই চেয়ারপার্সন রাহুল সিং এবং শিক্ষা দফতরের সচিব সঞ্জয় কুমারকে তলব করেছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিরাও, যাতে সরাসরি তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা যায়। ডাকা হয়েছে ভারতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম–এর ডিজিকেও, যার ফলে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার ভিত নিয়েও গভীর পর্যালোচনা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কমিটির আলোচনায় মূলত দুইটি দিক গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। এক, যুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে চালু করা হয়েছে। দুই, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে কি না। পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি নবম ও দশম শ্রেণিতে তিন ভাষা ফর্মুলা বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করবে, যা নিয়েও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে বিতর্ক তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সিবিএসই-র পুনর্মূল্যায়ন পোর্টাল ঘিরে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন পোর্টাল খোলার চেষ্টা করা হলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ওয়েবসাইটে ‘রক্ষণাবেক্ষণ চলছে’ বার্তা দেখা যায়। দুপুর পর্যন্ত একই পরিস্থিতি থাকায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। পরে বোর্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় জানায় যে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে পোর্টাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে ২ জুন, মঙ্গলবার বোর্ড জানায়, পুনর্মূল্যায়ন ও যাচাইকরণের পোর্টাল পুনরায় চালু করা হয়েছে। এখন পরীক্ষার্থীরা নম্বর যাচাই, উত্তরপত্রের প্রতিলিপি সংগ্রহ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন।
তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। পড়ুয়ার একাংশের অভিযোগ, পোর্টাল খুললেও তাঁরা লগইন করতে পারছেন না, আবার কোথাও আবেদন প্রক্রিয়া এগোনোই যাচ্ছে না। অনেকের দাবি, সঠিক বিকল্প নির্বাচন বা পেমেন্ট গেটওয়েতেও সমস্যা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগ, বহু পরীক্ষার্থী পোর্টাল খোলার পরও আবেদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি আরম্ভ ওয়েবডেস্ক। তবে একই ধরনের সমস্যা ১ জুনও দেখা গিয়েছিল, যখন দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ‘রক্ষণাবেক্ষণ চলছে’ এমন বার্তা ভেসে উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, যারা পুনর্মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছেন। কারণ এ ফলাফলের ভিত্তিতেই তাঁদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে, ‘ওএসএম’ ব্যবস্থা ঘিরে অভিযোগের পরিমাণও ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও স্ক্যান করা উত্তরপত্র ঝাপসা, কোথাও আবার উত্তরপত্রের অংশ অনুপস্থিত, আবার কোথাও নম্বর গণনায় ভুল ধরা পড়ছে বলে দাবি করছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। রিভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়ায় সার্ভার সমস্যা ও পেমেন্ট বিভ্রাটের অভিযোগও আগেই উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকও কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ‘ওএসএম’ সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। সিবিএসই-র কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে একাধিক স্তরে দায় নির্ধারণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনিক মহলে ইঙ্গিত, গুরুতর ত্রুটি প্রমাণিত হলে বড়সড় পদক্ষেপ হতে পারে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক প্রযুক্তি সংস্থা ‘কোয়েম্প্ট এডু টেক’ সংস্থাকে দেওয়া টেন্ডার। অভিযোগ, বিভিন্ন ধাপে যোগ্যতার শর্ত ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও সিবিএসই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াই আর্থিক বিধি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তবু বিতর্ক থামেনি। একাধিক ইথিক্যাল হ্যাকার ও স্বাধীন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই সিস্টেমে নিরাপত্তা দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ডিজিটাল আর্কাইভ ও রিপোজিটরি কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়, ফলে উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আইআইটি পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে প্রযুক্তিগত অডিট ও সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছে মন্ত্রক। পুনর্মূল্যায়ন পোর্টালের কাঠামোও নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সমস্ত আবেদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
❤ Support Us







