Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২, ২০২৬

‘বিরোধী’ তকমা বাঁচাতে বিধানসভায় চিঠি হাতে কুণাল-অসীমা, জমা নিলেন না সচিব

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘বিরোধী’ তকমা বাঁচাতে বিধানসভায় চিঠি হাতে কুণাল-অসীমা, জমা নিলেন না সচিব

বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ভাঙন অনিবার্য বলেই নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার স্পিকারের উদ্দেশে নতুন চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন তৃণমূলের দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও অসীমা পাত্র। তবে তাঁদের অভিযোগ, স্পিকার রথীন বোসের অনুপস্থিতিতে তাঁর সচিব চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে স্পিকারের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি জমা দিতে চেয়েছিলেন কুণাল ও অসীমা। কিন্তু কুণালের দাবি, স্পিকারের সচিব তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি আর কোনো চিঠি গ্রহণ করবেন না। ফলে তাঁরা চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিতে পারেননি। তৃণমূলের অভিযোগ, সোমবারও দলের পক্ষ থেকে একটি চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি সচিব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপরই নাকি স্পিকারের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আর কোনো চিঠি গ্রহণ করা যাবে না। সে কারণেই মঙ্গলবার জমা দিতে যাওয়া চিঠিটি নেওয়া হয়নি বলে দাবি তৃণমূল বিধায়কদের।

এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে স্পিকারের সচিবের চেয়ারের উপর পেপারওয়েট চাপা দিয়ে চিঠিটি রেখে আসেন কুণাল ও অসীমা। শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুণাল। তাঁর প্রশ্ন, ‘স্পিকার যদি দেখা না করেন, আবার চিঠিও জমা দিতে না দেওয়া হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলবে কীভাবে?’ যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে স্পিকারের তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। সে কারণেই চিঠি গ্রহণে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। যদিও স্পিকার কোনো নির্দেশ দিয়ে থাকলে তা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সূত্রের খবর, সোমবার তৃণমূল যে চিঠিটি স্পিকারের কাছে জমা দেয়, তাতে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করা হয়েছিল। সে রায়ে বলা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার অধিকার বৃহত্তম বিরোধী দলের, পৃথকভাবে বিধায়কদের নয়। তৃণমূলের দাবি, আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে চিঠি স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ বৈধ। সোমবার জমা দেওয়া চিঠিতে ওই যুক্তিই তুলে ধরা হয়েছিল এবং সেটি স্পিকারের সচিব গ্রহণও করেন। মঙ্গলবার ওই চিঠিরই একটি বর্ধিত ও পরিপূরক অংশ জমা দিতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ ও অসীমা পাত্র। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, সেই চিঠি আর গ্রহণ করা হয়নি, যা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!