- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুন ৩, ২০২৬
কেশম দ্বীপে হামলার প্রতিশোধে কুয়েত, বাহরিন ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কোনও লক্ষণই নেই, ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বুধবার ভোরে পশ্চিম এশিয়ার তিন দেশ কুয়েত, ইরাক ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এমনই দাবি করেছে ইরানের সরকারি গনমাধ্যম। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। তারই প্রেক্ষাপটে এই হামলা বলে জানিয়েছে ইরান।
বুধবার ভোরে প্রথমে কুয়েতের অনেক মানুষ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর কুয়েতের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায় যে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার জন্য সক্রিয় ছিল। কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিহত করার জন্যই বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে। এক প্রাথমিক বিবৃতিতে কুয়েতি সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলেছেন,‘ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবেলা করছে। যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিহত করার শব্দ।’
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং কেশম দ্বীপের আশেপাশে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী একটা ইরানি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন হামলার জবাবে তারা এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও একটা মার্কিন বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তারা আরও বলেছে, এই অভিযান আরও কঠোর করা হবে। কাশম দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাব দেওয়ার ব্যাপারে আগে যে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছি, এই হামলা তারই বাস্তবায়ন।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং একটা মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর ইরানের দাবি অস্বীকার করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে যে, আকাশপথে সব হামলা সময়মতো প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কোনও হামলা সফল হয়নি।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় কুয়েতের সামরিক বাহিনী জনসাধারণকে আর একটা সতর্কবার্তা জারি করেছে। সামরিক বাহিনী জনগণকে কোনও ভূপতিত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা ধ্বংসাবশেষের কাছে না যেতে বা তা স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই ধরনের ধ্বংসাবশেষ জীবনহানির কারণ হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আব্দুল আজিজ আল–ওতাইবি দেশে বসবাসকারী নাগরিক ও বিদেশিদের যে কোনও সন্দেহজনক বস্তু সম্পর্কে অবিলম্বে জরুরি নম্বরে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি জনগণকে শুধুমাত্র সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্য নিতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করার জন্যও অনুরোধ করেন। কুয়েতের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে যে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে, বাহরনিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়টি নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের জারি করা সমস্ত নিরাপত্তা নির্দেশাবলী মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সংস্থা, আইআরআইবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ভিডিও শেয়ার করেছে। দাবি করা হয়েছে যে এই ভিডিওগুলোতে বাহরিনের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা গেছে।
❤ Support Us






