- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৩, ২০২৬
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ! প্রাণ বাঁচাতে জানলা দিয়ে ঝাঁপ, হতাহত বহু
রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালব্য নগরে বুধবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। প্রাণ বাঁচাতে ধোঁয়া ও আগুনে ঘেরা ভবনের জানলা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন কয়েক জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা ভবন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় আবাসিকদের মধ্যে।
বুধবার সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হৌজ রানি এলাকায় অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁ ও হোটেল কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ ভবনের বেসমেন্টে অবস্থিত রেস্তোরাঁর অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে কী কারণে আগুন লাগে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিক কিংবা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি— সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে ভবনের নীচের অংশ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়া দ্রুত উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা ভবনটির নীচে রেস্তোরাঁ, আর উপরের তলাগুলিতে হোটেল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ছোটোখাটো আগুন। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা বিল্ডিং ধোঁয়ায় ভরে যায়। জানলা থেকে লোকজন চিৎকার করছিলেন।’
দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৪০ জন অতিথি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার প্রয়োজনে দিল্লিতে এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। প্রশাসনের একাংশের দাবি, মৃতদের মধ্যে কয়েক জন বিদেশি নাগরিকও থাকতে পারেন। তাঁদের পরিচয় ও জাতীয়তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ঘটনার খবর পেয়েই তৎপর হয় দিল্লি ফায়ার সার্ভিস। একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন, জলবাহী ট্যাঙ্কার, কুইক রেসপন্স ভেহিকল এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু সরু রাস্তা, এলাকার ঘিঞ্জি অবস্থানের কারণে প্রথম দিকে উদ্ধারকাজে সমস্যা হয়। তবু যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনতে শুরু করেন দমকলকর্মীরা।
দমকল ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত অন্তত ৩৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের দ্রুত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) এবং অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তবে এ দুর্ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে। আগুন এবং ধোঁয়ার তীব্রতায় যখন সিঁড়ি ব্যবহার অসম্ভব হয়ে ওঠে, তখন কয়েক জন অতিথি প্রাণ বাঁচাতে জানলা থেকে ঝাঁপ দেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বহু মানুষ নিজেদের বাড়ি থেকে গদি, কম্বল, ম্যাট্রেস এনে ভবনের নীচে বিছিয়ে দেন। যাতে উপর থেকে ঝাঁপ দিলে আঘাত কিছুটা হলেও কম লাগে। স্থানীয়দের এ উদ্যোগে কয়েক জনের প্রাণ বেঁচেছে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
দক্ষিণ জেলার এসডিএম জিতেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, রেস্তোরাঁর অংশ থেকেই আগুন ছড়িয়েছে। তবে সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।’ ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শুরু করেছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছান আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতীও। তাঁর দাবি, ভবনের উপরের তলাগুলিতে দীর্ঘ সময় ধরে কয়েক জন আটকে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, খবর পাওয়ার পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি করেছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে সরকার সব রকম সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা, আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
❤ Support Us







