Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৩, ২০২৬

নবান্নের এক ছাদের নীচে তৃণমূলের দুই শিবির, শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির ঋতব্রত-কুণাল-ফিরহাদ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নবান্নের এক ছাদের নীচে তৃণমূলের দুই শিবির, শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির ঋতব্রত-কুণাল-ফিরহাদ

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের রেখা ক্রমশ গাঢ় হয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত গত কয়েক দিনে প্রকাশ্যে এসেছে, বুধবার তা চরমে পৌঁছেছে। বিধানসভার অন্দরে পরিষদীয় নেতৃত্ব নিয়ে শক্তিপ্রদর্শন করেছে তৃণমূলের  ‘বিদ্রোহী’ অংশ। অন্যদিকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে একই ছাদের নীচে দেখা গেল তৃণমূলের যুযুধান দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের। আর সে ছবিই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার খোরাক জুগিয়েছে।

বুধবার কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নবান্নের সভাঘরে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক পর্যালোচনার বৈঠকে যোগ দিতে একে একে নবান্নে পৌঁছতে থাকেন সংশ্লিষ্ট জেলার বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু উপস্থিতির তালিকায় যে নামগুলি ছিল, তা কেবল প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, রাজনৈতিক ভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমেই নবান্নে পৌঁছন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। দু-জনকেই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার সই-বিতর্ক সামনে এনে দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই তাঁরা শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিলেন। এই দুই নেতার প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতি আগেই প্রত্যাশিত ছিল। কারণ, তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

কিন্তু তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই নবান্নে পৌঁছতে শুরু করেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব-সহ তৃণমূলের আরও একাধিক বিধায়ক ও নেতা। যাঁদের অনেককেই মঙ্গলবার পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছে। ফলে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতাদের পাশে তাঁদের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অরুণাভ সেন, সমীর পাঁজা, প্রিয়া পাল, গুলশান মল্লিক, তাপস মাইতি, নীলিমা মিস্ত্রি, আব্দুল খালেক মোল্লা, বাহারুল ইসলাম, পরেশরাম দাস, জয়দেব হালদার এবং সমীর জানাও। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জেলার জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁদের উপস্থিতি নিছক প্রশাসনিক প্রটোকলের বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে না।

কারণ, এ দিনের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভার অন্দরে ঘটে গিয়েছে নাটকীয় ঘটনা। তৃণমূলের একাংশের বিধায়করা স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে পৃথক চিঠি জমা দিয়ে দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রী থাকলেও পরিষদীয় দলনেতা বা বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চান। সেই চিঠিতে উপ-দলনেতা হিসেবে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতকের পদে আখরুজ্জামানের নাম সুপারিশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে চলা ক্ষমতার টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। কারণ, এক দিকে দলনেত্রী হিসেবে মমতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করা হচ্ছে, অন্য দিকে পরিষদীয় নেতৃত্বে বিকল্প মুখের দাবি তোলা হচ্ছে। ফলে সাংগঠনিক ও পরিষদীয় নেতৃত্বের মধ্যে কার্যত একটি নতুন বিভাজনরেখা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সই-জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এনে প্রথম সরব হয়েছিলেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রকাশ্যে তাঁদের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়েছে। এর পরেই তৃণমূল নেতৃত্ব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে। কিন্তু বহিষ্কারের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তাঁরা। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত। এ দিন নবান্নে যাওয়ার আগে ঋতব্রত আবারও দাবি করেন, তাঁরা সংঘাতের রাজনীতি নয়, ‘গঠনমূলক বিরোধিতার’ পথে হাঁটতে চান। তাঁর দাবি, ‘জনস্বার্থে সরকারের ভালো কাজকে সমর্থন করা এবং প্রয়োজন হলে সমালোচনা করা— এই ভারসাম্য বজায় রেখেই কাজ করতে চাই।’ এ অবস্থানই দিনের ছবিতে প্রতিফলিত হলো। যে নবান্ন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেই একই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেল বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের এবং দলের প্রভাবশালী মুখদের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!