- দে । শ
- জুন ৫, ২০২৬
শ্রীচৈতন্য ও প্রভু নিত্যানন্দের স্মৃতিতে দুই স্টেশনের নাম বদলের প্রস্তাব রেলমন্ত্রককে
খড়দহ ও পানিহাটির সমৃদ্ধ বৈষ্ণব ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে সোদপুর ও খড়দহ রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের কাছে । এই উদ্যোগ নিয়েছেন খড়দহের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী ।
মন্ত্রী জানান, শ্রীচৈতন্য ও প্রভু নিত্যানন্দের স্মৃতিবিজড়িত খড়দহ-পানিহাটি অঞ্চল প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। ‘চৈতন্য ভাগবত’-সহ একাধিক বৈষ্ণব গ্রন্থে এই দুই এলাকার উল্লেখ রয়েছে । সেই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক পরিচিতিকে আরও গুরুত্ব দিতেই খড়দহ স্টেশনের নাম ‘শ্রীপাট খড়দহ’ এবং সোদপুর স্টেশনের নাম ‘পানিহাটি’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ।
কল্যাণ চক্রবর্তীর মতে, খড়দহ ও পানিহাটির বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরকে কেন্দ্র করে ‘টেম্পল ট্যুরিজম’ বা ধর্মীয় পর্যটনের বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে। স্টেশনগুলির নাম যদি এলাকার ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং পর্যটনকেন্দ্রিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা যায়, তাহলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে ।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট সাতটি উন্নয়নমূলক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী । এর মধ্যে অন্যতম হল খড়দহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে বিটি রোডের সংযোগ আরও সহজ করতে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা, যা ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে ।
এছাড়াও বলরাম হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, খড়দহের খালের সংস্কার এবং খড়দহ রেলস্টেশনকে একটি আধুনিক ‘মডেল স্টেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের কাছে জানানো হয়েছে ।
খড়দহের খাল সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পাঁক ও পলি জমে খালটির নাব্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে । তাই খাল থেকে পলি অপসারণ করে তার স্বাভাবিক জলধারণ ও জলপ্রবাহ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জরুরি ।
একই সঙ্গে বিটি রোড থেকে পূর্বাঞ্চলের গ্রামীণ খড়দহ পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে খালের উপর পিলারের সাহায্যে একটি রাস্তা নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । মন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না । তবে রাস্তা নির্মাণের ফলে খালের নাব্যতা ও স্বাভাবিক জলপ্রবাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ।
সামগ্রিকভাবে, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন — এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই খড়দহ-পানিহাটি অঞ্চলের জন্য একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার ।
❤ Support Us





