Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৫, ২০২৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘সবুজ বার্তা’ মোদি ও শুভেন্দুর, বৃক্ষরোপণে জোর কেন্দ্র-রাজ্যের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘সবুজ বার্তা’ মোদি ও শুভেন্দুর, বৃক্ষরোপণে জোর কেন্দ্র-রাজ্যের

পরিবেশ রক্ষার লড়াই এখন আর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, তা গোটা মানবসমাজের অস্তিত্বের সঙ্গেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে যখন বিশ্বের নানা প্রান্তে চরম আবহাওয়া, তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ের মতো ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, তখন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের পক্ষে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দু-জনেই পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণের অংশগ্রহণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং পরিবেশ সচেতনতার পক্ষে বার্তা দিয়েছেন।

শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে যাঁরা নিরলস কাজ করে চলেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপনের দিন নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় গত এক দশকে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ধারাবাহিক নীতি গ্রহণ, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দেশে সবুজ আচ্ছাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বাঘ, সিংহ, গণ্ডার-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

মোদির বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি আস্থা এবং সুদূরপ্রসারী নীতিনির্ধারণ— এই তিনের সমন্বয়েই পরিবেশগত উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে মত তাঁর। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এ বারের মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রকৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে এ বারের থিম। ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে শুরু হওয়া এ দিবস বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশ সচেতনতা অভিযানে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেন। এ বছরের আয়োজক দেশ আজারবাইজান।

এ দিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকালে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে আসুন সকলে গাছ লাগাই। প্লাস্টিকমুক্ত একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করি।’ শুধু বার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বৃহৎ বৃক্ষরোপণ অভিযান। ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক পেড় মা কে নাম’ প্রকল্পের আদলে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের আবেগের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিধাননগরের নলবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে গাছ লাগানোর পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের পোনা ছাড়েন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, চলতি বছরে রাজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ রোপণ। শুধু বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ ফলদায়ী গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও কার্যকর ভাবে পৌঁছে দিতে শিক্ষা ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্কুলের পাঠ্যক্রমে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়কে আরও গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুধুমাত্র প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়। এর সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে হবে।

তবে শুধু বৃক্ষরোপণের আহ্বানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। রাজ্যের বনাঞ্চল এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বাড়তে থাকা চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় বনভূমির চরিত্র বদলে যাচ্ছে এবং জঙ্গলাঞ্চলের জমি অন্য কাজে ব্যবহার হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার প্রশ্নে তিনি সতর্কবার্তা দেন। পাশাপাশি, বৃহত্তর কলকাতার দ্রুত নগরায়ণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ সবুজ এলাকা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক, বহু ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। ফলে শহর ক্রমশ কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সবুজ এলাকার নিয়ম কঠোর ভাবে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।

রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ৫ জুন ২০২৬ থেকে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে রাজ্যব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান। পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলা, ব্লক, পুরসভা, পৌরনিগম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক চারাগাছ রোপণের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। প্রতিটি বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় অন্তত এক হাজার চারাগাছ লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!