- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৮, ২০২৬
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে তৃণমূল সাংসদদের ‘বিদ্রোহী’ বৈঠক, জোড়াফুল শিবিরে আরও ভাঙনের জল্পনা
সোমবার, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়, ছেড়েছেন দলও। মমতা-অবিষেক-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। ইঙ্গিত দিয়েছেন, জোড়াফুলে আরও বড়ো ভাঙন আসন্ন। এরই মধ্যে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির মতিলাল নেহরু মার্গের বাসভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের বৈঠক ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, সোমবার দুপুরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়ো ধরনের ভাঙনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ওই বৈঠকে তৃণমূলের মোট ১১ জন লোকসভার সাংসদ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। উপস্থিতদের তালিকায় রয়েছেন— বারাসতের কাকলি ঘোষ দস্তিদার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের শতাব্দী রায়, বোলপুরের অসিত মাল, মথুরাপুরের বাপি হালদার, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, কোচবিহারের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সরেন, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক এবং বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার।
এছাড়া বৈঠকে সদ্য তৃণমূল ও রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়ও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। জানা যাচ্ছে, বৈঠকে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলে এবং কিছু অংশগ্রহণকারী বেরিয়ে গেলেও কয়েকজন সাংসদ সেখানে থেকে যান।
এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একাধিক দফায় আলাদা বৈঠকও হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেখানে তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার একাধিক ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ অংশ নেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— লোকসভা ও রাজ্যসভায় তৃণমূলের ভিতরে কি বড়ো ধরণের ভাঙন আসন্ন? ঘটনার সময়কালও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনই দিল্লিড় কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাতে যোগ দিয়েছেন মমতা, অভিষেক। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে একই দিনে দলের ভিতরের বৈঠক ও বিরোধী জোটের বৈঠক— দুই ঘটনাই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, ‘বিক্ষুব্ধ’ বৈঠকে উপস্থিত সাংসদ সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কোনো সূত্রে বলা হচ্ছে প্রায় ২০ জন, আবার অন্য সূত্রে দাবি করা হচ্ছে সংখ্যা ১২-এর কাছাকাছি। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
রাজ্যের বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিধায়কদের একাংশ, বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিনকে উপ-বিরোধী দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংসদীয় দলের সদস্যদের একসঙ্গে বসা স্বাভাবিক বিষয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আমাদের যা ইচ্ছে রয়েছে… কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব ১৪৩৫ কিলোমিটার… সে ইচ্ছে এখন দিল্লিতে পৌঁছে গেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, একাধিক সাংসদের সঙ্গে তাঁর আগেই কথা হয়েছে এবং সদ্য ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়ের বক্তব্যের সঙ্গেও তিনি একমত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাম্প্রতিক গোষ্ঠী রাজনীতির প্রভাব এবার দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভাতেও অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি করা হচ্ছে, কারণ দলের বৈঠকে বহু কাউন্সিলারের অনুপস্থিতি সে জল্পনাকে আরও জোরদার করেছে। সব মিলিয়ে, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের সাংসদদের একাংশের আলাদা বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে চলা আলোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এখন নজর রাজনৈতিক মহলের— এ পরিস্থিতি আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোকে কোন দিকে নিয়ে যায়।
❤ Support Us







