- দে । শ স | হ | জ | পা | ঠ
- জুন ৮, ২০২৬
সোম-রাতের আকাশে বিরল ‘অরোরা’ দৃশ্যের সম্ভাবনা, লাদাখ-কাশ্মীরে দেখা যেতে পারে সবুজ-লাল আলোর ঢেউ
৮ জুন, সোমবার ভারতের আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য তৈরির সম্ভাবনা। আকাশে চোখ পাতলে দেখা মিলতে পারে— ‘নর্দার্ন লাইটস’ বা ‘অরোরা বোরিয়ালিস’-এর। সূর্যের প্রবল সৌরঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে মনোমুগ্ধকর আলোকচ্ছটা ভারতের আকাশেও ধরা দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাখণ্ডের উচ্চ হিমালয়াঞ্চল, কাশ্মীরের কিছু অংশ এবং লাদাখের প্যাংগং সো, হ্যানলে ও নুব্রা উপত্যকার মতো উচ্চভূমি অঞ্চল থেকে এই বিরল আলোর ঝলক দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত ৬ জুন সূর্যের অ্যাকটিভ রিজিয়ন থেকে একটি শক্তিশালী ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ বা গ্যাসমেঘ মহাশূন্যে ছিটকে আসে। প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে ধেয়ে আসা সেই চৌম্বকিত প্লাজমা মেঘ ইতিমধ্যেই পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলেই সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের তীব্রতা সর্বাধিক থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার।
জানা গিয়েছে, এই ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের মাত্রা এই মুহূর্তে ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে রয়েছে, যদিও কিছু সময়ের জন্য তা ‘অত্যন্ত তীব্র’ পর্যায়ে পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই মহাজাগতিক আলোকচ্ছটার সর্বোচ্চ প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে অনুমান। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সূর্য থেকে নির্গত উচ্চশক্তির আধানযুক্ত কণা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে প্রবেশ করে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সেই সংঘর্ষ থেকেই নির্গত শক্তি আকাশে সবুজ, বেগুনি কিংবা লাল রঙের আলোর পর্দা সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় ‘অরোরা’।
সাধারণত এ দৃশ্য মেরু অঞ্চলের দেশগুলো; নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, কানাডা বা আলাস্কায় দেখা যায়। তবে প্রবল সৌরঝড়ের সময় এই আলোর বলয় দক্ষিণ দিকে সরে আসে, ফলে নিম্ন অক্ষাংশেও তা দৃশ্যমান হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভারতের মতো নিম্ন অক্ষাংশের দেশ থেকে ‘অরোরা’-র দেখা পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। লাদাখের হ্যানলে ডার্ক স্কাই রিজার্ভ, প্যাংগং সো ও নুব্রা উপত্যকা, কাশ্মীরের উচ্চাঞ্চল এবং উত্তরাখণ্ডের হিমালয় ঘেঁষা অঞ্চলগুলি থেকে উত্তর দিগন্তে হালকা লাল বা গোলাপি আভা চোখে পড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলিতে মহাজাগতিক এ দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়। আলো, দূষণ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শহরগুলির আকাশে ‘অরোরা’-র প্রভাব ধরা পড়বে না বলেই মত বিজ্ঞানীদের।
ভারতের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গা হিসেবে উঠে আসছে লাদাখের হ্যানলে অঞ্চল। এখানকার উচ্চতা ও স্বচ্ছ আকাশ ‘অরোরা’ পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ। আবহাওয়াবিদদের মতে, আজ রাতের আকাশ বেশিরভাগ জায়গায় পরিষ্কার থাকলেও লাদাখ ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যবেক্ষণের সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকবে। রাত ১১টা ৩০ মিনিটের পর থেকে ভোর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়কে ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উত্তর দিকে মুখ করে অন্ধকার জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করলে সবচেয়ে ভালো ফল মিলতে পারে। প্রয়োজন হলে দীর্ঘ এক্সপোজারের ক্যামেরা বা মোবাইলের নাইট মোড ব্যবহার করলেও আলোকচ্ছটার আভাস ধরা পড়তে পারে।
যদিও এ দৃশ্য, আকাশপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত মনোরম, তবে সৌরঝড়ের প্রভাবে মহাকাশ-নির্ভর প্রযুক্তিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জিপিএস সিগন্যাল, উপগ্রহ যোগাযোগ এবং উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। ইতিহাস বলছে, ১৮৫৯ সালের ক্যারিংটন ইভেন্টে এমনই এক প্রবল সৌরঝড়ে ইউরোপ ও আমেরিকার টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৪ সালের সৌরঝড়েও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় জিপিএস ও পাওয়ার গ্রিডে প্রভাব পড়ে।
❤ Support Us





