- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ৯, ২০২৬
নেই ফোন-ইন্টারনেট, সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ‘নিট’ প্রশ্নপত্র প্রণেতারা। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ২১ জুন পুনঃপরীক্ষা
‘নিট ইউজি’ পুনঃপরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চিত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর, ২১ জুন নির্ধারিত পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী শিক্ষক ও বিষয় বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণ ‘বিচ্ছিন্ন’ অবস্থায় রাখা হয়েছে— তাঁদের কাছে না রয়েছে মোবাইল ফোন, না ইন্টারনেট, না বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ দিন আগে নির্বাচিত ওই বিশেষজ্ঞ দলকে একটি সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে। সেখানেই চলছে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ। কিন্তু সে কাজের পরিবেশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রায় ‘লকডাউন’-সদৃশ পরিস্থিতি। বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ। এমনকি দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও রয়েছে কড়া নিয়ন্ত্রণ। ২১ জুন পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু প্রশ্নপত্র প্রণয়নেই নয়, সমগ্র পরীক্ষাপদ্ধতিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। সূত্রের খবর, প্রশ্নপত্র পরিবহণের দায়িত্বে এবার ভারতীয় বায়ুসেনাকে যুক্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পরীক্ষার প্রশ্ন যাতে কোনোভাবে ফাঁস না হয়, তার জন্য আকাশপথে নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থার কথাও ভাবা হয়েছে। এছাড়াও দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিকে ঘিরে। প্রতিটি স্তরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে এআই-সমৃদ্ধ নজরদারি ক্যামেরা এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হয়ে যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়। তদন্তে নাম আসে একাধিক স্তরে গাফিলতির। সিবিআই তদন্তে উঠে আসে এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞের নামও। অভিযোগ, তিনি একাধিক প্রশ্নপত্রের সংস্করণের ‘অ্যাক্সেস’ পেয়েছিলেন। এ মামলায় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ও এনটিএ একাধিক দফায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় পুনরায় পরীক্ষা নেবার। সে অনুযায়ী ২১ জুন নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এবার পরীক্ষাপদ্ধতিকে ভেঙে ফেলা হয়েছে একাধিক স্তরে। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে অনুবাদ, মডারেশন, প্রিন্টিং, প্যাকিং, সংরক্ষণ এবং পরিবহণ, প্রতিটি ধাপ আলাদা আলাদা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। কারও কাছেই পুরো প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ চিত্র নেই। উদ্দেশ্য একটাই, কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে যাতে সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার সম্ভব না হয়। এই ‘কম্পার্টমেন্টালাইজড’ ব্যবস্থাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো। পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ভুয়ো তথ্যের সমস্যা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও মেসেজিং অ্যাপে দাবি করা হচ্ছে, পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র নাকি আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে এবং তা বিক্রি হচ্ছে। তবে এনটিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক। সংস্থা জানিয়েছে, নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোনো গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ জুন দেশের ৫৫১টি শহরে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ‘নিট ইউজি’-র পুনঃপরীক্ষা। পরীক্ষা হবে কাগজ-কলম পদ্ধতিতে। সময় নির্ধারিত হয়েছে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রকের নির্দেশে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, এবারের পরীক্ষা শুধু একটি প্রবেশিকা পরীক্ষা নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাও বটে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেফতার, তদন্ত; সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এবারের পুনঃপরীক্ষা প্রশাসনের কাছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর আস্থা পুনর্গঠন, দুই দিক সামলাতে হচ্ছে এনটিএ-কে।
❤ Support Us






