- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৫, ২০২৬
হাজিরা খাতাই নেই ! ভিতরে ক’জন বোঝার উপায় নেই । তারাতলা-বিপর্যয়ে কাদের জেরা ? তালিকা তৈরি করল লালবাজার
তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তার সঠিক হিসাব এখনও পর্যন্ত পায়নি পুলিশ। কারণ, ওই গুদামে কোনও উপস্থিতির রেজিস্টার রাখা হত না বলে অভিযোগ। ফলে ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আরও কতজন আটকে থাকতে পারেন, সেই সংখ্যাও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এফআইআর-এ মোট পাঁচ জনের নাম ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রধান ঠিকাদার আসগর হুসেনের দেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। বাকি চার জন অভিযুক্তকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন অয়ন ট্রেডার্সের বিল্ডিং সুপারভাইজ়ার মহম্মদ গুলজ়ার, যাঁদের সংস্থা গুদামের ছাদ তৈরির কাজে যুক্ত ছিল। এছাড়া যে সংস্থা কলকাতা বন্দরের জমি লিজ নিয়ে সেখানে গুদাম নির্মাণ করছিল— বেহরা ব্রাদার্স— সেই সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ আরও গ্রেফতার করেছে লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত এবং শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভান্ডারীকে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার নকশা অনুমোদনের দালাল হিসেবে পরিচিত আব্দুল হামিদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল অগ্রবাল জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৯ জন, যাঁরা বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শম্ভুনাথ বেহরার স্ত্রীও তাঁর সংস্থার অন্যতম অংশীদার। তাঁর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসছে।
ধৃত মহম্মদ গুলজ়ার এবং মৃত ঠিকাদার আসগর হুসেনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল। গুলজ়ারের বিরুদ্ধে একবালপুরে মারপিটের ঘটনায় মামলা রয়েছে। অন্যদিকে আসগরের বিরুদ্ধে বন্দর দক্ষিণ থানায় ২০১৩ সালের একটি মামলা এবং একবালপুর থানায় একটি অপহরণের মামলাও ছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। কাদের জেরা করা হবে তার একটি তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। তাঁদের মোবাইল ফোনও খতিয়ে দেখা হবে, সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
কলকাতা পুরসভার কাছ থেকেও ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে লালবাজার। পুরসভার আধিকারিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনায় চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিধানসভা থেকে তারাতলা কাণ্ডের জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভেঙে পড়া গুদামের নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না।
এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার কলকাতা ও শহরতলির সমস্ত নির্মাণকাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
❤ Support Us







