- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১, ২০২৬
১.১০ কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করা হবে না, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
রাজ্যের অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । বুধবার তিনি জানান, যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং যাঁদের তথ্য ইতিমধ্যেই আপলোড হয়েছে অথচ এখনও টাকা পৌঁছয়নি, তাঁদের অ্যাকাউন্টেও বুধবার বিকেলের মধ্যেই অর্থ জমা পড়বে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৩ জুন প্রথম পর্যায়ে ২৭ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছিল। এরপর মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও আপলোডের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
আবেদন যাচাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই আবেদনগুলির মধ্যে এমন ব্যক্তিদের নাম ছিল যাঁরা যোগ্য নন। ফলে বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। যাঁদের এখনও টাকা পৌঁছয়নি, তাঁদেরও আজ বিকেলের মধ্যেই অর্থ পৌঁছে যাবে। একজনও যোগ্য ব্যক্তি যাতে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু সমতল এলাকা নয়, পাহাড়ি অঞ্চলের নেপালি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের যোগ্য উপভোক্তারাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের লক্ষ্য হল প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছেই সরকারি অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং এই ক্ষেত্রে কোনও পক্ষপাত করা হয়নি।
আবেদন বাতিলের কারণও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর দাবি, যাচাইয়ের সময় এমন বহু আবেদন সামনে এসেছে, যেখানে আবেদনকারী ভারতীয় নাগরিক নন, মৃত, অথবা অন্যত্র স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন । তাই এই ধরনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, যাতে সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায় ।
অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন যাচাই নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি জানান, প্রায় ২ কোটি অ্যাকাউন্ট যাচাই করা হয়েছে । এর মধ্যে ২৬ লক্ষ অ্যাকাউন্ট এমন ব্যক্তিদের, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন, মৃত অথবা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন । এছাড়া প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষের নামও তালিকায় ছিল বলে দাবি করেন তিনি ।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনগণের করের অর্থ অযোগ্য বা অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া যায় না । তাই সমস্ত আবেদন ও উপভোক্তার তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল ।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, যাঁরা CAA-র আওতায় আবেদন করেছেন, তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হবে না । একইসঙ্গে যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের আবেদন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে ।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর বক্তব্য, যদিও ফর্মটি ১২ পাতার বলে প্রচার করা হয়েছে, বাস্তবে আবেদনকারীদের মাত্র ৪ পাতার তথ্য পূরণ করতে হয়েছে । এই তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে বলেও জানান তিনি ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করা ৮ লক্ষ ১৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টেও ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে ।
সরকারের দাবি, ধাপে ধাপে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং কোনও যোগ্য আবেদনকারীকে বঞ্চিত করা হবে না ।
❤ Support Us





