Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১, ২০২৬

রাজ্যে চালু ‘জি রাম জি’ প্রকল্প, বাড়ল মজুরি। আড়াই কোটি জব কার্ডধারীর জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজ্যে চালু ‘জি রাম জি’ প্রকল্প, বাড়ল মজুরি। আড়াই কোটি জব কার্ডধারীর জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজ

বুধবার, ১ জুলাই থেকে রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’, সংক্ষেপে ‘ভিবি জি রাম জি’ বা ‘জি রাম জি’ প্রকল্প। ২০০৫ সালের ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প’ (মনরেগা)-র পরিবর্তে এই নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতি অর্থবর্ষে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৮,৫০৮ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকার ৫,৬৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পূর্বে বন্ধ থাকা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে ধারাবাহিকতায় ‘জি রাম জি’ প্রকল্প কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, রাজ্যের যেসব গ্রামীণ এলাকায় এ প্রকল্প প্রযোজ্য, সেখানেই এটি চালু হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী সুবিধা পাবেন। প্রত্যেক যোগ্য শ্রমিক প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পাবেন।

শ্রমিকদের মজুরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি না পেলে আইন অনুযায়ী শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কাউন্সিল। কাউন্সিলের নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। এছাড়া মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীনকমিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করবে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শেষ পাঁচ বছরে দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ ছিল। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকৃত শ্রমিকদের পরিবর্তে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যেও গরমিল থাকায় একজনের মজুরি অন্যজনের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার মতো ঘটনাও সামনে আসে। অভিযোগের তদন্তে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল রাজ্য পরিদর্শন করে। পরে তাদের সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার উপভোক্তা তালিকা সংশোধন করে, যেখানে প্রায় ৫০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রের অনুমোদন পেতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধের আশ্বাসও দেওয়া হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!