- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ৩, ২০২৬
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল
বিশ্বকাপের প্রি–কোয়ার্টার ফাইনালে দুই প্রজন্মের লড়াই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বনাম লামিলে ইয়ামাল। এই লড়াইয়ের চিত্রনাট্য অবশ্য তৈরি হত না, যদি পর্তুগাল অবিশ্বাস্য ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে না হারাত। নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ। দু’দুটি গোল বাতিল। ১৯ মিনিটের ইনজুরি। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল। সামনে এবার স্পেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লামিলে ইয়ামালের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইটা দারুণ জমে যাবে।
ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়া তারকা লুকা মডরিচকে সান্তনা দিচ্ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দুজনেই একই প্রজন্মের ফুটবলার। টানা ৬ বছর ক্লাব ফুটবলে একই দলের জার্সিতে ঘাম ঝড়িয়েছেন। রিয়েল মাদ্রিদে থাকার সময় মডরিচের পাস থেকে কতই না গোল করেছিলেন রোনাল্ডো। এদিন প্রতিপক্ষ। শেষ হয়ে গেল মডরিচের বিশ্বকাপ অভিযান। জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন এই ক্রোট তারকা। লুকা মডরিচের পরিবর্তে শেষ হয়ে যেতে পারত ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরও বিশ্বকাপ অভিযান। হতে দেননি গনসালো র্যামোস, রোনাল্ডোরই পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে ৯৪ মিনিটে গোলটা না করলে। এক কিংবদন্তির বিদায়, আর টিকে রইলেন আর এক কিংবদন্তি।
ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখলে একেবারেই মনে হবে না, শেষদিকে এতটা নাটকীয় হয়ে উঠতে পারে। কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে দাপট ছিল পর্তুগালেরই। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোল তুলে নিতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা। রোনাল্ডো, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, রাফায়েল লিয়াও, জোয়াও ক্যানসেলোদের একের পর এক আক্রমণ আটকে গেছে ক্রোয়েশিয়া রক্ষণে। তিনকাঠির নিচে ক্রোট গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ম্যাচের ৪ মিনিটে পরপর দুটি শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে দুবারই দারুণ সেভ করে পর্তুগালকে গোল থেকে বঞ্চিত করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। এরপরো বেশ কয়েকটা নিশ্চিত গোল বাঁচান। ক্রোয়েশিয়া অবশ্য খুব বেশি আক্রমণে উঠে আসতে পারেনি। ফলে প্রথমার্ধে ম্যাচের ফল থাকে ০-০।
দ্বিতীয়ার্ধ অবশ্য রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ভরা। ইভান পেরিসিচের গোলে ক্রোয়েশিয়ার এগিয়ে যাওয়া দিয়ে শুরু। এরপর রোনল্ডোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে করা গোল বাতিল অফসাইডে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণের ধার বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে স্তানিসিচের সেন্টার থেকে বল পেয়ে বাঁপায়ের নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। ৩ মিনিট পর আবার পর্তুগালের জালে বল জড়ায় ক্রোয়েশিয়া। অফসাইডের জন্য সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ৫৮ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল পর্তুগালের সামনে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রাফায়েল লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
এরপর নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন রোনাল্ডো। ৬১ মিনিটে ক্যানসেলোর থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন। অফসাইডের কারণে ভিএআরে তাঁর গোল বাতিল হয়ে যায়। অবশে্যে ৬৮ মিনিটে হতাশা কাটান রোনাল্ডো। পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান। এরপর গোলের জন্য দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৫ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আবার শট। নিশ্চিত গোল বাঁচান পর্তুগিজ গোলকিপার দিয়েগো কোস্তা। ৮০ মিনিটে আবারও বল জালে জড়ায় ক্রোয়েশিয়া। এবারও অফসাইডের জন্য বাতিল।
৮১ মিনিটে রোনাল্ডোকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কাতার বিশ্বকাপের মতো অসন্তোষ নিয়ে মাঠ ছাড়েন পর্তুগাল অধিনায়ক। রোনাল্ডো উঠে যাওয়ার পর পর্তুগালের আক্রমণে গতি বাড়ে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই জ্বলে ওঠেন গনসালো র্যামোস। রাফায়েল লিয়াওয়ের সেন্টার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন। তখনও আরও নাটক বাকি। প্রথমে ১০ মিনিট ইনজুরি সময় দেওয়া হলেও সময় নষ্টের কারণে সেটা বাড়তে থাকে। ইনজুরি সময়ের ১৩ মিনিটে বল জালে জড়ান ইয়োস্কা গাভার্দিওল। সবাই ভেবেছিলেন ম্যাচ ২–২। কিন্তু রেফারি ভিএআর পর্যালোচনা করে অফসাইডের জন্য সেই গোল বাতিল করে দেন। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার ক্রোয়েশিয়ার।
❤ Support Us








