Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৪, ২০২৬

যন্তর-মন্তরে অনশনের ৭ দিন: শারীরিক অবস্থার অবনতি সোনমের । শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে অনড় সিজেপি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যন্তর-মন্তরে অনশনের ৭ দিন: শারীরিক অবস্থার অবনতি সোনমের । শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে অনড় সিজেপি

দিল্লির ন্তরমন্তরে টানা আন্দোলনের আবহে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা। অনশনের সপ্তম দিনে পৌঁছে তাঁর ওজন পাঁচ কেজি কমে গিয়েছে বলে দাবি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের অভিযোগশারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও কেন্দ্র এখনো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের কোনো পদক্ষেপ করেনি।  শনিবার, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি নিশানা করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

জুন মাসের ২০ তারিখ থেকে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল সিজেপি-র আন্দোলন। সে আন্দোলনেরই অংশ হিসেবে গত  দিন ধরে ন্তর মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের অভিযোগনিট-সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দায় নির্ধারণ বা জবাবদিহির কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সে কারণেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন তাঁরা। শনিবার, একাধিক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেপ্রতিটি দিন পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আর কত দিন অপেক্ষা করবেন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করার জন্য?’

খানেই থেমে থাকেননি দীপকে। আরও একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘২০ জন ছাত্রের মৃত্যুর পরেও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন পদ থেকে সরানো হচ্ছে নাপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ কেন?’ যদিও এই ২০ জন ছাত্রের মৃত্যু’ সংক্রান্ত দাবির কোনো সরকারি বা বিচারবিভাগীয় নিশ্চিতকরণ এখনো সামনে আসেনি। রকারকে আরও কড়া ভাষায় সতর্ক করে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা লেখেন, ‘সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করেতা হলে সোনম স্যারের কোনো ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায় সরকারেরই থাকবে।’ অন্যদিকে, ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও, দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না

তবে একই সময়ে লাদাখ ইস্যুতে কেন্দ্রের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘লাদাখ সমস্যা সমাধানে আজ যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছেতার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এবার অনুগ্রহ করে শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়েও নজর দিন।’ ওয়াংচুকের এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই লেহ অ্যাপেক্স বডি (এলএবি) এবং কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)-এর প্রতিনিধিরা জানানস্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য মিটে গিয়েছে। ফলে লাদাখের প্রস্তাবিত প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ খুলে গিয়েছে। এলএবি’ ও কেডিএ-র নেতাদের দাবিএ অচলাবস্থা কাটাতে ওয়াংচুকের অনশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে

পৃথক মঞ্চে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র সঙ্গে যুক্ত ছয় পড়ুয়া। শনিবার তাঁদের অনশনও ১৫তম দিনে পৌঁছেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে। ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রাও পাচ্ছে এ আন্দোলন। ইতিমধ্যেই অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে বা প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিপিআইএম -এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, নেত্রী বৃন্দা কারাটসিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজাসিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যসমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবসুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাস্বচ্ছতা আন্দোলনের কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজতথ্যের অধিকার আন্দোলনের কর্মী নিখিল দে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও মহুয়া মৈত্র।

জুনের ২০ তারিখে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এই মুহুর্তে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। যন্তর-মন্তরে এই মুহূর্তে ছাত্র-যুব থেকে শ্রমিক-কৃষক, সাধারণ আমজনতার ভিড়। বহু মানুষ সংহতি জানাচ্ছেন ‘আড়শোলা’-দের দাবিগুলিতে। আন্দোলনের প্রচারে ব্যঙ্গকেও হাতিয়ার করেছে সিজেপি এদিন দীপকে একটি কার্টুন পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, ‘এক্সাম পেপার’ লেখা কাগজ খাওয়ার চেষ্টা করছেন এক ব্যক্তি। তাঁকে আটকে রেখেছে দুটি আরশোলা। ছবির নীচে লেখা, ‘গো ব্যাক ধর্মেন্দ্র প্রধান’।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!