Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ৯, ২০২৬

মেদিনীপুর মেডিক্যালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্ক, রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্য ভবনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মেদিনীপুর মেডিক্যালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্ক, রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্য ভবনের

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগিণীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য ভবন। বৃহস্পতিবার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করার পাশাপাশি হাসপাতালের স্টোররুম এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী দল হাসপাতালের স্টোররুম পরিদর্শন করার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগিণী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে জমা পড়তে পারে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “তদন্ত এবং রিপোর্ট তলব—দুটোই হয়েছে। আশা করছি ১২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট হাতে পাব। হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল। মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী দ্রুত বাতিল করতে হবে। তা না হলে স্বাস্থ্য দফতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। অভিযোগ, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ৬২ বছর বয়সী মানসী দে-কে মেয়াদোত্তীর্ণ ডেক্সট্রোস স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। রোগিণীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে দাবি করেন, স্যালাইন চালানোর কিছুক্ষণ পর তাঁর মা বুকে জ্বালাপোড়ার কথা জানান। এরপর তিনি স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করে দেখেন, তার মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্বজিতের অভিযোগ, তিনি বিষয়টি ওয়ার্ডের নার্সদের জানালে তাঁরা বলেন, “এত রোগীর চাপের মধ্যে প্রতিটি স্যালাইনের মেয়াদ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।” তাঁর আরও দাবি, যে ওয়ার্ডে তাঁর মা ভর্তি ছিলেন, সেখানে আরও কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনের বোতলও রাখা ছিল। পরে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে মানসী দে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা শাসক, এক জন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডেপুটি সিএমওএইচ-কে নিয়ে গঠিত এই দল হাসপাতাল চত্বর, সিসিইউ এবং মেডিক্যাল স্টোররুম ঘুরে দেখেছে। তারা স্টোরের নথিপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, নার্সিং সুপার, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নার্স এবং যে চিকিৎসকের অধীনে রোগিণী ভর্তি রয়েছেন, তাঁর সঙ্গেও কথা বলেছেন। রোগিণী এবং তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে-র বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ভবনের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে একই হাসপাতালে স্যালাইন দেওয়ার পর পাঁচ জন প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হাসপাতালে হয়। বাকি চার জনকে গ্রিন করিডর তৈরি করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে আরও এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। অন্যরা পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও, এক জনের নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল।
ওই ঘটনার পর স্যালাইনে ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও তদন্তে স্যালাইনের কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল তৎকালীন সরকার। পরে সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধি দলও হাসপাতালে যায়। ঘটনায় জুনিয়র চিকিৎসক, কয়েক জন সিনিয়র চিকিৎসক এবং হাসপাতালের সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের পর তাঁদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৎকালীন হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত রাউত (যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারির ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন), অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান আলাউদ্দিনসহ আরও কয়েক জন চিকিৎসকের বরখাস্তের নির্দেশও প্রত্যাহার করা হয়।
নতুন এই অভিযোগ সামনে আসার পর হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণ, মেয়াদ পরীক্ষা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আবারও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই এই ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট হবে।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!