- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- জুলাই ৯, ২০২৬
পাঁচ রাজ্যের গুরুদ্বারায় দেখানো হবে দিলজিতের ‘সতলুজ’
ছবির বিষয়বস্তু, বহু দৃশ্য নিয়ে আপত্তি। সেন্সর বোর্ডের একাধিক বিধিনিষেধ, কাটছাঁটের নির্দেশে জটিলতায় দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বড়ো পর্দায় মুক্তি পায়নি হানি ত্রেহান পরিচালিত, দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত যশবন্ত সিং খালরার জীবনভিত্তিক ‘পাঞ্জাব-৯৫’। অবশেষে, ‘সতলুজ’ নাম নিয়ে ৩ জুলাই জি৫-এ মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। নির্মাতাদের দাবি, কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই, প্রকাশিত হয়েছে ছবিটি। কিন্তু আড়াই দিনের মধ্যেই ওটিটি থেকেও উধাও হয়ে যায় সেটি। কী কারণে সংস্থার এমন পদক্ষেপ তা জানা যায় নি, ফলে দেশজুড়ে শুরু হয় প্রবল প্রতিক্রিয়া। সেন্সরশিপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ইতিহাসের উপস্থাপনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
তবে, এত বিতর্কের মাঝে থামছে না ‘সতলুজ’-এর যাত্রা। জি৫ থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার পর দেশের নানা প্রান্তের গুরুদ্বারায় শুরু হতে চলেছে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত এই বহুচর্চিত ছবির বিশেষ প্রদর্শনী।পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান থেকে জম্মু— পাঁচ রাজ্যের একাধিক গুরুদ্বারায় আগামী কয়েক দিনে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। ধর্মীয় সংগঠনগুলির বক্তব্য, মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার জীবনের উপর নির্মিত এই ছবিকে মানুষের কাছ থেকে আড়াল হতে দেওয়া হবে না।
‘শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি’ (এসজিপিসি)-র দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুদ্বারা কমিটি যৌথ ভাবে এ উদ্যোগে শামিল হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই— ছবির কাহিনি, বার্তা যাতে মানুষের কাছে পৌঁছতে থাকে। সম্প্রদায়ের একাংশের মতে, অনলাইনে ছবি দেখা না গেলেও ইতিহাস ও স্মৃতিকে মুছে ফেলা যায় না। সে কারণেই গুরুদ্বারার দরজা সাধারণ দর্শকের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, জম্মুতে আগামী ১০ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে ৪টি পৃথক গুরুদ্বারায় ‘সতলুজ’ প্রদর্শিত হবে। অন্যদিকে, রাজস্থানের জয়পুরে ‘চাঁদি কি তকসাল গুরুদ্বারা’র বাবা ফতেহ সিং অডিটোরিয়ামে ১১ জুলাই একটি সর্বসাধারণের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সে সংক্রান্ত পোস্টার ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লিতেও ছবিটিকে ঘিরে সরব সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি। ‘দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি’র সভাপতি হরমিত সিং কালকা প্রকাশ্যে ছবিটিকে পুনরায় জি৫-এ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘কমিউনিটি স্ক্রিনিং’য়ের পক্ষেও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রায় ৪ বছর আগে ছবিটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও দীর্ঘ দিন ধরে সেন্সর ছাড়পত্রের জটিলতায় আটকে ছিল মুক্তি। প্রথমে ‘ঘাল্লুঘারা’ নামে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের (সিবিএফসি) কাছে জমা পড়েছিল ছবিটি। পরে ২১টি কাটছাঁটের শর্তে ছাড়পত্র দেওয়ার পাশাপাশি নাম পরিবর্তন করার দাবি জানানো হয় বলে দাবি। পরে, ‘পাঞ্জাব ’৯৫’ নাম দিলেও সেন্সর বোর্ড ছবিটির মুক্তি আটকে দেয় বলে অভিযোগ নির্মাতাদের। কাটছাঁটেও রাজি হননি নির্মাতারা। তাঁরা আইনি পথেও আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি ‘সিবিএফসি’-র ‘রিভাইজিং কমিটি’র কাছে পাঠানো হয়। সেখানে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের দাবি, কমিটি মোট ১২৭টি কাটছাঁটের সুপারিশ করেছিল। শুধু তা-ই নয়, ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র যশবন্ত সিং খালরার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। নির্মাতারা সে শর্ত মানতে অস্বীকার করায় ছবিটির ভারতে মুক্তি বছরের পর বছর পিছিয়ে যায়।
অবশেষে চলতি মাসের ৩ তারিখ ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি জি৫-এ মুক্তি পায়। নির্মাতাদের দাবি, সেটি ছিল ছবির ‘আসল’ সংস্করণ। কিন্তু মুক্তির দু–দিনের মধ্যেই ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্র সরকারের আশঙ্কা, ছবির কিছু বিষয়বস্তু খালিস্তানপন্থী আবেগকে উসকে দিতে পারে অথবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আদৌ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারের ‘উপযুক্ত’ কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (আইডিসি) গঠন করেছে কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। সূত্রের খবর, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০-এর ধারা ৬৯এ এবং তথ্যপ্রযুক্তি (মধ্যস্থতাকারী নির্দেশিকা ও ডিজিটাল মিডিয়া নীতিমালা) বিধি, ২০২১-এর আওতায় এ পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ধারা ৬৯এ কেন্দ্র সরকারকে এমন ক্ষমতা দেয়, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কোনও অনলাইন বিষয়বস্তু অপসারণ বা তার প্রবেশাধিকার সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া যায়। একই সঙ্গে ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি বিধির তৃতীয় অংশে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমগুলির জন্য পৃথক নিয়ন্ত্রক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সে বিধানের ভিত্তিতেই জি৫-কে ছবিটি সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের একাধিক শীর্ষকর্তার দাবি, বিষয়টি এখন ‘আইডিসি’র পর্যবেক্ষণে রয়েছে। কমিটি ছবির বিষয়বস্তু সংক্রান্ত অভিযোগ, আপত্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখে কেন্দ্রকে সুপারিশ করবে। তদন্তের অন্যতম প্রশ্ন হলো, ছবিটির বিষয়বস্তু জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনোরকম উদ্বেগের কারণ হতে পারে কি না।
ছবিটি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও চলছে। ওটিটি সংসস্থার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ‘এসজিপিসি’-সহ পাঞ্জাবের একাধিক রাজনৈতিক দল। বিতর্কের আবহে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ছবির মুখ্য অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জও। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, ‘এটা হওয়ারই ছিল।’ ‘সতলুজ’-এ দিলজিৎ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, সুবিন্দর ভিকি এবং গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান।
❤ Support Us








