- দে । শ
- আগস্ট ১৭, ২০২৬
বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত স্কুলে সম্মাননা দুই অশীতিপরকে
জন্ম পরাধীন ভারতে। দেশের কোণে কোণে প্রথম উড়তে দেখেছিলেন তেরঙা ঝাণ্ডা। কচি হাতে নিজেরাও উড়িয়েছিলেন। আত্মীয়-পড়শিদের সঙ্গে সাতচল্লিশের ১৫ আগস্ট সারারাত জেগে উপভোগ করেছিলেন স্বাধীনতার আস্বাদ। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত কাটোয়ার দাঁইহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ওই ২ প্রাক্তনী শিবনারায়ণ সেন ও দেবীপ্রসাদ সাহাকে স্কুলের পক্ষ থেকে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সংবর্ধনা দেওয়া হল। বিশেষভাবে সম্মানিত করা হল। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষাপ্রেমী মানুষজন, স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মনোহর দাসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৯৫২ সালে শিবনারায়ণ সেন ও ১৯৫৫ সালে দেবীপ্রসাদ সাহা দাঁইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই বিদ্যালয়েরই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এই দুই প্রাক্তনীর উপস্থিতি স্কুলের পরিবেশ আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে উঠল। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের তরফে আয়োজিত বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরিতে অশক্ত শরীরেও যোগ দেন দুই অশীতিপর ছাত্র। তাঁদেরকে সামনে রেখে প্রভাতফেরিতে পা মেলান বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, বিদ্যালয় পরিচালিত ফুটবল ও ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের ছাত্ররা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা তোলেন দুই প্রবীণ প্রাক্তনী।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের সামনে তাঁদের মতো প্রাক্তনীদের সংবর্ধনা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। স্কুলের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় অভিভূত দুজনেই জানালেন, ‘জীবনের উজ্জ্বল প্রাপ্তি। মন্বন্তরের হাহাকার আর স্বাধীনতা পাওয়ার আনন্দ দুই বিপরীতমুখী পরিবেশের স্মৃতি মাঝে মাঝেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বিদ্যাসাগর মশাইয়ের প্রতিষ্ঠা করা স্কুলে পঠনপাঠনের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পদ।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক প্রাক্তনী গৌরনাথ চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘স্বাধীনতার ইতিহাস, বিদ্যালয়ের স্মৃতি আর কয়েক প্রজন্মের যোগসূত্রের মেলবন্ধন হয়ে ওঠে গোটা অনুষ্ঠান।’
❤ Support Us





