Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৮, ২০২৬

বিক্ষোভের আশঙ্কায় সমাবর্তনের অতিথি তালিকা থেকে বাদ প্রধান বিচারপতি? মহারাষ্ট্রের ‘টিস’ ঘিরে নতুন বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিক্ষোভের আশঙ্কায় সমাবর্তনের অতিথি তালিকা থেকে বাদ প্রধান বিচারপতি? মহারাষ্ট্রের ‘টিস’ ঘিরে নতুন বিতর্ক

‘নালসা’-র পরে এবার মহারাষ্ট্রের ‘টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স’ (টিস)-এর সমাবর্তন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমাবর্তনে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কথা আগে জানানো হলেও, নতুন আমন্ত্রণপত্রে তাঁর নাম আর নেই। পরিবর্তে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে ‘টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল’-এর ডিরেক্টর সিএস প্রমেশকে। সম্ভাব্য ছাত্রবিক্ষোভ ও প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রের দাবি ।

প্রথমে চলতি বছরের ‘টিস’-এর সমাবর্তন হওয়ার কথা ছিল ২ আগস্ট। কিন্তু ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’র কথা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র ২ দিন আগে তা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘অনুকূল পরিবেশ’ ছাড়া সমাবর্তনের মতো অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। পরে নতুন করে ২২ আগস্ট, শনিবার সমাবর্তনের দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে নতুন আমন্ত্রণপত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নাম বাদ পড়ে। কেন সমাবর্তনের দিনক্ষণ এবং অতিথির তালিকায় এ পরিবর্তন, সে বিষয়ে ‘টিস’-এর তরফে বিস্তারিত কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের একটি সূত্রের দাবি, প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে সম্ভাব্য পড়ুয়া-বিক্ষোভের আশঙ্কা ও তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই অতিথি তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে সমাবর্তনে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ’ (নালসার)-এর একাংশ পড়ুয়া তাঁর আমন্ত্রণের বিরোধিতা করেছিলেন। গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অধ্যাপকদের কাছে ই-মেল করে তাঁরা নিজেদের আপত্তির কথা জানান। এর পর প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণের বিরোধিতায় কারা প্রচার চালিয়েছিলেন, তা ‘নালসার’-এর উপাচার্যের কাছে জানতে চেয়েছিলেন বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। এমনকি তাঁর নির্দেশে ‘নালসার’-এর ২০২৬ সালের কোনো স্নাতককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো রাজ্য বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত না করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছিল।

বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পরে বিতর্কের জেরে বার কাউন্সিল সিদ্ধান্ত বদলের কথা ঘোষণা করে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বার কাউন্সিলের ‘অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, ঘটনাটি তাঁর ও পড়ুয়াদের মধ্যেকার বিষয়। একই সঙ্গে তিনি পড়ুয়াদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেও অবস্থান নেন। প্রধান বিচারপতির অসন্তোষ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল’ স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির আসন্ন সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ মননকুমার মিশ্রের উপস্থিতিরও তীব্র বিরোধিতা করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ।

প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের আর একটি কারণ তাঁর ‘আরশোলা’ মন্তব্য। দেশের যুব সম্প্রদায়কে আরশোলার সঙ্গে তুলনা করেছেন— এমন অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে মন্তব্যের প্রতিবাদে অভিজিৎ দীপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, তাঁর মন্তব্য যুবক-যুবতীদের উদ্দেশে ছিল না; তিনি ভুয়ো আইনি ডিগ্রিধারী আইনজীবীদের প্রসঙ্গে ওই উপমা ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ভুয়ো কৌঁসুলিরা কী ভাবে বিচারব্যবস্থার জন্য সমস্যা তৈরি করছেন, সে প্রসঙ্গেই তিনি তাঁদের ‘আরশোলার মতো’ বলেছিলেন।

এরই মধ্যে গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশি ‘দমনপীড়ন’-এর অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলাতেও প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ‘নালসার’-এর প্রতিবাদী পড়ুয়াদের কেউ কেউ। ওই ঘটনার ভিডিয়ো আদালতে দেখাতে চেয়েছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তখন জানিয়েছিলেন, ভিডিয়ো নিয়ে তাঁর আগ্রহ নেই এবং আদালতের কাছে তা দেখার সময়ও নেই। পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ভুল ভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

‘নালসার’, বেঙ্গালুরু ল’ স্কুল অব ইন্ডিয়ার পর এ বার ‘টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স’—প্রধান বিচারপতিকে সমাবর্তনের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে পরপর যে বিতর্ক সামনে এসেছে, তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পড়ুয়াদের প্রতিবাদের অধিকার এবং সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিরাপত্তা— এই তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। টিস-এর অতিথি তালিকা পরিবর্তনের পেছনে ঠিক কোন কারণ কাজ করেছে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তা স্পষ্ট না করলেও সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কার বিষয়টি ঘিরে জল্পনা অব্যাহত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!